নরমাল ডেলিভারি হওয়ার উপায় ১০টি , ১০০% কার্যকরী টিপস

আপনি কি নরমাল ডেলিভারি হওয়ার উপায় জানতে চান ? তাহলে এই আর্টিকেলটা আপনার জন্য।

একটি সময়ে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জন্মগ্রহণ করত । তখন প্রত্যেকটি মানুষের ধারণায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল সন্তান একমাত্র নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে হবে ।

আর এভাবে মা এবং সন্তান দুজনই সুস্থ থাকত । কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটি মানুষের ধারণা পাল্টে গেছে।

তারা মনে করে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে একমাত্র সিজারের মাধ্যমে। গর্ভবতী হওয়া একটি আনন্দের বিষয়।

আর যখন সিজার করা হয় তখন এই আনন্দটা শেষ হয়ে যায়। কেননা সিজারের মাধ্যমে একজন মাকে সারা জীবনের জন্য কষ্ট দেওয়া হয়।

আপনি জেনে খুশি হবেন একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে এমন কিছু উপায় রয়েছে যেগুলো ফলো করলে খুব সহজেই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব।

তাই আজ আমি এমন কিছু নরমাল ডেলিভারি হওয়ার উপায় বলবো যেগুলো প্রত্যেকটি ১০০% কার্যকরী এবং প্রসিদ্ধ।

তাই অবশ্যই আপনি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে করবেন। আশা করি আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

নরমাল ডেলিভারি হওয়ার উপায়

Table of Contents

নরমাল ডেলিভারি হওয়ার উপায়

এখানে আমি প্রায় ১০টি উপায় বলবো। প্রত্যেকটি উপায় কার্যকরী এবং প্রসিদ্ধ। আশাকরি উপায় গুলো আপনি ফলো করবেন। চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।

১. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

গর্ভ অবস্থায় ব্যায়াম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামের কারণে আপনার পেশী ও উরু দুনোটা শক্তিশালী হবে।

এতে প্রসব বেদনার চাপ সহ্য করা সহজ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি স্ট্রেস কমে যায় ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

কেগেল ব্যায়াম করতে পারেন যা পেলভিক মাসল নামক মাংসপেশিকে দঢ় এবং শক্তিশালী করে।এর ফলে খুব সহজেই নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এ সমস্ত ব্যায়াম অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করবেন। অন্যথায় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. নিয়মতান্ত্রিক ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে

নরমাল ডেলিভারি হওয়ার উপায় হলো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যা গর্ভবতী মহিলাকে শক্তিশালী করে তুলে এবং সুস্থ রাখে। ফলে নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়।

পাশাপাশি গর্ভের শিশুর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবং তার গঠনের ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাবার অনেক সাহায্য করে। তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যাতে করে শরীরের ওজন বেশি বেড়ে না যায়।

এতে করে নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই অবশ্যই খাবারের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কয়েকটি পুষ্টিকর খাবারের তালিকা দেওয়া হল।

  • তরতাজা শাক-সবজি
  • দেশি মুরগি খেতে পারেন।
  • দেশি মুরগির ডিম খেতে পারেন।
  • মাছের ডিম খেতে পারেন।
  • খাঁটি ঘি খেতে পারেন । এটা সন্তান নরমাল ভাবে জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী।
  • কবুতরের বাচ্চা। এটা শরীরে রক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী।

ইত্যাদি প্রত্যেকটা জিনিসই পুষ্টিকর খাবার। খাবার গুলো বেশি বেশি খাবেন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবার খাবেন।

৩.বেশি বেশি পানি খাবেন

পানি খাওয়া গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পানি খেলে নরমাল ডেলিভারি হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে ।

পাশাপাশি লেবার পেইন কমাতে অনেকটা সাহায্য করে , কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে দেয় এবং শরীরের রক্ত চলাচল ঠিক থাকে।

তাই প্রতিদিন কমপক্ষে দুই লিটার পানি পান করবেন। পাশাপাশি প্রতিদিন উষ্ণ গরম পানিতে অল্প সময় বসে থাকুন।

৪. সব সময় নিজেকে একটিভ রাখুন

বর্তমানে মহিলারা গর্ভবতী হলেই শুয়ে শুয়ে সময় কাটায় এবং কোন কাজ করে না। এটা নরমাল ডেলিভারি হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বাধা সৃষ্টি করে।

তাই গর্ভবতী হওয়ার সাথে সাথে নিজেকে সবসময় একটিভ রাখুন। শুয়ে বসে সময় কাটাবেন না। নিজেকে একটিভ রাখার জন্য প্রতিদিন কয়েকটি কাজ করতে পারে। যেমন :

  • রান্নাবান্না করতে পারেন
  • বাড়ির হালকা কাজ-কর্ম করুন। ভাড়ি কোন কাজ করবেন না।
  • সকাল বিকাল বিভিন্ন ব্যায়াম করুন।
  • সমবয়সী ও আত্মীয়দের সাথে বিভিন্ন আড্ডা দিন। এতে মন উৎফুল্ল থাকবে।

৫. নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সহজ উপায় হলো সব সময় স্ট্রেস মুক্ত থাকুন

নরমাল ডেলিভারির জন্য স্ট্রেস মুক্ত থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় নিজের মনকে স্ট্রেস মুক্ত থাকার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

পাশাপাশি নিজেকে হাসিখুশি থাকার ব্যাপারে অভ্যস্ত করতে হবে। কেননা যদি আপনি স্ট্রেস থেকে মুক্ত না হতে পারেন তাহলে ডেলিভারি সময়ও স্ট্রেস থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন না।

যদি ডেলিভারির সময় আপনি স্ট্রেস অনুভব করেন তাহলে আপনার অক্সিটোসিন হরমোনের উৎপাদন মাত্রা কমে যাবে।

ফলে আপনার প্রসব বেদনাকে দীর্ঘায়িত করে ফেলবে। আর যখন প্রসব বেদনা দীর্ঘায়িত হয়ে যাবে তখন নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

তাই অবশ্যই আপনাকে স্ট্রেস থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে।

৬. নরমাল ডেলিভারির ব্যাপারে ভয়ানক ঘটনা শোনা থেকে বেঁচে থাকুন।

বর্তমানে অনেকেই নরমাল ডেলিভারির সময় ঘটে যাওয়া নানান ভয়ংকর ঘটনা বর্ণনা করে। অবশ্যই আপনাকে এসব ঘটনা শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কেননা এসব ঘটনা আপনার উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে আপনার নরমাল ডেলিভারির উপর আগ্রহ কমে যেতে পারে।

৭. নিয়মিত দম চর্চা করুন

একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য দম চর্চা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে স্ট্রেস অনেক কমিয়ে ফেলে।

পাশাপাশি শরীরে এনার্জি তৈরি করে , পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পায় গর্ভের বাচ্চা এবং গর্ভের বাচ্চা বৃদ্ধি ও গঠনের ব্যাপারে অনেক সহায়তা করে। তাই অবশ্যই নিয়মিত দম চর্চা করবেন।

৮. নিয়মতান্ত্রিক হাঁটা-চলা করুন

গর্ভবতী মহিলার জন্য সকাল – সন্ধ্যায় হাঁটা-চলা করা অনেক লাভজনক। কেননা সকাল সন্ধ্যায় নিয়মিত হাঁটা-চলা করলে শরীর সুস্থ থাকে , মন ফ্রেশ থাকে এবং শরীরের ওজন কমে যায়। ফলে নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়।

৯. নরমাল ডেলিভারির জন্য করণীয় হলো প্রসব ও প্রেগনেন্সি এর ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে জানুন

গর্ভবতী মা হিসেবে আপনাকে প্রেগনেন্সি ও প্রসবের ব্যাপারে পরিপূর্ণ ধারণা রাখতে হবে।

অর্থাৎ আপনাকে জানতে হবে কোন কোন বিষয় থেকে এড়িয়ে চলতে হবে এবং কোন কোন বিষয়গুলো গ্রহণ করতে হবে। যেমন : 

  • প্রচুর পরিমাণ ফল খেতে হবে
  • দুধ খেতে হবে
  • ফলের রস খেতে হবে
  • পেটে চাপ দেওয়া যাবে না।
  • ভারী কাজ করা যাবে না
  • মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

ইত্যাদি এ জাতীয় বিষয়গুলো আপনাকে জানতে হবে।

 ৩টি পদ্ধতিতে ধারণা রাখতে পারেন।

  1. অনেক জায়গায় অভিভাবক ক্লাস হয় ঐ সমস্ত ক্লাসে এটেন্ড করে প্রেগনেন্সির ব্যাপারে পরিপূর্ণ ধারণা নিতে পারেন।
  2. বর্তমানে বাজারে প্রেগনেন্সির ব্যাপার অনেক বই পাওয়া যায়। ঐ সমস্ত বই পড়ে এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ ধারণা নিতে পারেন।
  3. ইউটিউব অথবা গুগলে এ ব্যাপারে প্রচুর তথ্য পেয়ে যাবেন সেখান থেকে ধারনা নিতে পারেন।

মোটকথা : উল্লিখিত মাধ্যম গুলো থেকে গর্ভধারণ থেকে শুরু করে বাচ্চা জন্ম দেওয়া পর্যন্ত কি কি করা উচিত ও কি কি করা উচিত না এবং কি কি খাওয়া উচিত এবং কি কি খাওয়া উচিত না এ সমস্ত বিষয় আপনাকে জানতে হবে।

১০. নিয়মিত চেকআপ করাবেন

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত শরীর চেকআপ করাবেন। যেমন :

  • ডায়াবেটিস আছে কিনা থাকলে নিয়ন্ত্রণ আছে কিনা ? এ ব্যাপারে চেকআপ করাবেন।
  • প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা ? 
  • শরীরের রক্ত ঠিক আছে না কমে গেছে ?
  • ক্যালসিয়াম এর ঘাটতি আছে কিনা ?

ইত্যাদি এসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। আশা করি উপরে বর্ণিত নরমাল ডেলিভারি হওয়ার উপায় গুলো ফলো করলে ১০০% খুব সহজে নরমাল ডেলিভারি হবে।

আরো পড়ুন :

নরমাল ডেলিভারি কখন সম্ভব না ?

নরমাল ডেলিভারি কখন সম্ভব না

৬টি উপসর্গ দেখে বুঝতে পারবেন নরমাল ডেলিভারি হবে না।

  1. গর্ভবতী মায়ের পেটে যদি সন্তান উল্টো ভাবে থাকে অর্থাৎ পা আগে থাকে মাথা পড়ে থাকে তাহলে নরমাল ডেলিভারি হবে না। কেননা নরমাল ডেলিভারি হওয়ার জন্য শর্ত হলো মাথা আগে থাকতে হবে।
  2. পেটের সন্তান অনেক বড় হয়ে গেলে। অর্থাৎ গর্ভবতী মা যদি খাটো বা ছোট হয় তাহলে এক্ষেত্রে যদি গর্ভের বাচ্চা বড় হয়ে যায় তাহলে নরমালি ডেলিভারি সম্ভব না।
  3. যদি গর্ভে বাচ্চা থাকা অবস্থায় পেটে পানি কম দেখা দেয় তাহলে নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। আর নরমাল পানির পরিমাণ হলো ৮ – ১০ সেন্টিমিটার।
  4. যদি ৪০ সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোন ধরনের ব্যথা না ওঠে তাহলে নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা নাই। তাই দ্রুত সিজারের মাধ্যম গ্রহণ করতে হয়।
  5. মাত্রা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে। সন্তানের জন্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এক্ষেত্রেও নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
  6. অনেক সময় শরীরের নানান রকম পরিবর্তনের কারণে সবকিছু ভালো থাকার পরেও নরমাল ডেলিভারি হয় না।

নরমাল ডেলিভারির কি কি লক্ষণ রয়েছে ?

৬টি উপসর্গ দেখে বুঝতে পারবেন নরমাল ডেলিভারি হবে ।

  1. বারবার পায়খানা পেশাবের চাপ হতে পারে।
  2. মাত্রা অতিরিক্ত স্রাব বের হতে থাকবে।
  3. গর্ভবতী মহিলার পিঠের নিচের অংশে প্রচুর পরিমাণ ব্যথা হবে।
  4. গর্ভবতী মহিলার অস্থিরতা মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাবে।
  5. প্রসব ব্যথা ওঠার পরে পানির থলি ফেটে যাবে।
  6. স্তন দুধে ভারী হয়ে যাবে।

প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেলে কি করবেন ?

প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেলে ৫টি কাজ করুন । তাহলে প্রসব সহজ হবে ।

  • প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেলে পিঠে মেসেজ করুন। এতে করে ব্যথা কমে যাবে।
  • ব্যথা অনুভব হলে শুয়ে থাকবেন না বরং হাঁটাচলা করুন। এতে করে বাচ্চা নিচে নেমে আসবে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বাচ্চা জন্মগ্রহণ করবে।
  • আজেবাজে চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত থাকুন। ভালো চিন্তাভাবনা করুন।
  • ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহকে ডাকুন। আশা করি সহজ হয়ে যাবে।
  • স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিঃশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। যাতে করে বাচ্চার অক্সিজেন ঠিক থাকে।

নরমাল ডেলিভারির হওয়ার পর জরায়ুর যত্ন

নরমাল ডেলিভারির পরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শরীর চেকআপ করাতে হবে। মোটামুটি ছয় মাস পর্যন্ত কোন ধরনের ভারী কাজ করা যাবে না। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে ও হাঁটাচলা করতে হবে যাতে করে জরায়ুর আশপাশের মাংসপেশিগুলো শক্ত হয়ে যায়।

নরমাল ডেলিভারি হওয়ার পর করণীয়

নরমাল ডেলিভারির পর কমপক্ষে 8 থেকে 10 ঘণ্টা বিশ্রাম করবে। ভারী কাজ থেকে থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। অর্থাৎ যে সমস্ত খাবার পুষ্টিকর যেমন শাকসবজি , ফল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। যাতে করে শরীরের ঘাটতি খুব দ্রুত পূরণ হয়ে যায়।

নরমাল ডেলিভারির উপকারিতা 

নরমাল ডেলিভারির উপকারিতা 

নরমাল ডেলিভারির অনেক উপকার রয়েছে। কয়েকটি উপকার তুলে ধরছি।

  1. মা এবং সন্তান দুজনেই সুস্থ থাকে।
  2. বাচ্চা ডেলিভারি হওয়ার পর মায়ের কোন কষ্টই থাকে না। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।
  3. অপারেশন করার কারণে যে যন্ত্রনা সেটা পোহাতে হয় না।
  4. সিজার করার কারনে পিঠের দিকে ব্যথা সারাজীবন সহ্য করতে হয়। কিন্তু নরমাল ডেলিভারিতে এরকম কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।
  5. সিজার করার কারণে সারা জীবনের জন্য ভারী কোন কাজ করা যায় না। কিন্তু নরমাল ডেলিভারিতে এরকম কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।
  6. মাত্র ৪৫ দিন পর থেকেই মায়ের যোনি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।
  7. নরমাল ডেলিভারিতে রক্তপাত কম হয়।
  8. মায়ের সাথে বাচ্চার বন্ধন খুব দ্রুত হয়। কারণ তারা দুজনই সুস্থ থাকে।

আরে নানান উপকার রয়েছে নরমাল ডেলিভারিতে। আশা করি আমরা সকলে চেষ্টা করব যতটুকু সম্ভব নরমাল ডেলিভারি করার।

পরিশেষে বলবো : উপরে নরমাল ডেলিভারি হওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। আশা করি আপনি খুব সহজেই উল্লেখিত আলোচনা থেকে অনেক উপকৃত হয়েছে। তাই অবশ্যই আপনার মূল্যবান কমেন্ট করে জানাবেন। পাশাপাশি আপনি আপনার বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন : 

নরমাল ডেলিভারির জন্য কি খেতে হবে ?

পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। যেমন :
১. তারতাজা শাক- সবজি।
২.বেশি বেশি ফল খেতে হবে।
৩. ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
৪. ভিটামিন জাতীয় খাবার খেতে হবে।
এগুলো খেলে-ই নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

নরমাল ডেলিভারি দোয়া কি ?

আল্লাহ তায়ালার ৯৯ টি নাম এ অবস্থায় পড়া এবং আল্লাহ তালার পবিত্র নাম ( المبدئ ) আল মুবদিয়ু ৯০ পাঠ করে গর্ভবতী মায়ের চারদিকে শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ঘোরাবে। ইনশাআল্লাহ খুব সহজেই বাচ্চা জন্মগ্রহণ করবে ।

ডেলিভারি পেইন উঠানোর উপায় কি ?

ব্যথা উঠানোর জন্য কোন ধরনের ওষুধ খেতে হয় না। বরং যখন সময় হবে তখন অটোমেটিক ভাবে ব্যথা শুরু হয়ে যাবে।
যদি ব্যথা শুরু না হয় তাহলে ডাক্তারের মাধ্যমে ইঞ্জেকশন দিয়ে ব্যথা উঠানো যায়। এ ব্যাপারে কোন চিন্তা না করে অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করলে সমাধান হয়ে যাবে।

নরমাল ডেলিভারি কত দিনে হয় ?

নরমাল ডেলিভারির নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। কখনো ৩৭ সপ্তাহে জন্মগ্রহণ করে। আবার কখনো ৩৮ সপ্তাহে জন্মগ্রহণ করে। স্বাভাবিকভাবে সর্বশেষ ৪০ সপ্তাহ ধরা হয়।

Leave a Comment