৫০০০ টাকায় ব্যবসা হিসেবে ৭ টি ব্যবসার আইডিয়া

আপনি কি জানতে চান ৫০০০ টাকায় ব্যবসা সম্পর্কে ? অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে বাস্তবিক পক্ষে পাঁচ হাজার টাকায় কোন ব্যবসা করা যায় কিনা ? অনেকেই আবার মনে মনে ধারণা করে পাঁচ হাজার টাকা কোন ব্যবসা করা যায় না।

মোটকথা এ সম্পর্কে মানুষের নানান ধরনের ধারণা রয়েছে। অতএব আজ আমি মানুষের বিভিন্ন ধরনের ভুল ধারণা ভেঙ্গে দিয়ে ৫০০০ টাকায় ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করব।

৫ হাজার টাকায় যে কত চমৎকার চমৎকার ব্যবসা করা করা যায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো। অতএব আপনি আপনার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই আর্টিকেলে পেয়ে যাবেন। চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।

৫০০০ টাকায় ব্যবসা

৫০০০ টাকায় ব্যবসা

 আমি এখানে প্রায় ৭ টি ব্যবসার আইডিয়া দিব। আশা করি প্রত্যেকটি ব্যবসার আইডিয়া মনোযোগ সহকারে পড়বেন। তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার মনের কাঙ্খিত প্রশ্নটির উত্তর পেয়ে যাবেন।

১. কাগজের ব্যাগ বা ঠুঙ্গা তৈরি করা।

পলিথিনের ব্যাগ এটা পরিবেশ বান্ধব নয়। প্রাকৃতিককে অনেক ক্ষতি করে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই কাগজের ব্যাগ বা ঠুঙ্গা ব্যবহার হয়। যেমন : ফল বিক্রির ক্ষেত্রে , ঔষধ সরবরাহের ক্ষেত্রে আর অন্যান্য ক্ষেত্রে এই কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়।

দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলছে। অতএব আপনি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন। কেননা এই ব্যবসা অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা সম্ভব। অর্থাৎ আপনি 5 হাজার টাকা দিয়েই এই চমৎকার ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসায় প্রচুর লাভ রয়েছে।

২. ৫০০০ টাকায় ব্যবসা হিসেবে চায়ের দোকান দিতে পারেন

চা এটা সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার। প্রত্যেকটি মানুষের কাছে এই চা জনপ্রিয়। দিন দিন চায়ের চাহিদা বেড়েই চলছে। এর চাহিদা কমবে না। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আপনি চায়ের ব্যবসা ৫০০০ টাকা দিয়ে খুব সহজেই শুরু করতে পারেন।

এই ব্যবসায় পুজি বেশি লাগেনা। অল্প পুঁজিতেই আপনি এ ব্যবসা খুব সহজেই শুরু করতে পারেন। দেরি না করে আজই এই ব্যবসা শুরু করে দিন। এ ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই দুইটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন সেটা হল :

  • এক নাম্বার বিষয় হলো : ভালো জায়গা নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ চা বিক্রি করার জন্য এমন একটি স্থান নির্বাচন করুন যেখানে লোক সমাগম বেশি। যেমন : বাজার , বাস ইস্টান , শহর ইত্যাদি। এ সমস্ত স্থানে আপনার দোকান নির্বাচন করলে ধীরে ধীরে আপনার বিক্রয় চাহিদা বেড়ে যাবে কমবে না।
  • দ্বিতীয় বিষয় হল : আনকমন এবং মজাদার চা তৈরি করা। যাতে করে একজন লোক একবার খেলে দ্বিতীয়বার আবার আপনার চা খেতে চায়। মোটকথা ভালোভাবে সমস্ত মসলা দিয়ে চা তৈরি করুন। দেখবেন এমনিতেই চা মজা হয়ে যাবে।

অথবা অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে চা তৈরি করার টেকনিক শিখতে পারেন। আশা করি এই দুইটি বিষয়ে ফলো করলে আপনি খুব সহজেই এই ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে পারবেন অল্প পুঁজি দিয়ে।

৩. ৫ হাজার টাকায় ব্যবসা হিসেবে রিচার্জ এর দোকান দেওয়া

৫০০০ টাকায় ব্যবসা

এই ব্যবসাটি অনেক চাহিদা পূর্ণ এবং চমৎকার। কেননা বর্তমান সময়ে মোবাইল সকলের হাতে হাতে রয়েছে। মোবাইল যেহেতু রয়েছে তাই রিচার্জ এর প্রয়োজন পড়ে। বোঝা গেল রিচার্জ এর চাহিদা অনেক বেশি।

দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলছে। অতএব আপনি পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল রিচার্জ এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এ ব্যবসা শুরু করার জন্য অবশ্যই একটি বিষয় আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

সে বিষয়টি হলো ভালো জায়গা নির্বাচন। অর্থাৎ এমন একটি স্থান নির্বাচন করুন যেখানে লোক সমাগম বেশি। সব সময় লোকজন যাতায়াত করে। যেমন : শহর বা উপশহর , বাজার , বাস স্ট্যান্ড ইত্যাদি।

এই সমস্ত স্থানে লোক সমাগম বেশি হয়। তাই এ সমস্ত স্থানে দোকান দিলে আপনার দোকান খুব সহজেই মানুষের কাছে প্রচলিত হয়ে যাবে। আর আপনার রিচার্জ এর ব্যবসা ধীরে ধীরে সফলতার মুখ দেখবে। তাই আপনি পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আজই এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন কোন ধরনের চিন্তাভাবনা ছাড়াই।

৪. ৫০০০ টাকায় ব্যবসা হিসেবে কাঁচামালের ব্যবসা

কাঁচামাল হলো নৃত্য প্রয়োজনীয় জিনিস। এর চাহিদা অনেক বেশি। কখনো এর চাহিদা কমবে না। গ্রাম হোক শহর হোক সকলেই তাজা কাঁচামাল পছন্দ করে। তাই আপনি কাঁচামালের ব্যবসা করতে পারেন।

অর্থাৎ ৫০০০ টাকার মধ্যে তাজা কাঁচামাল ক্রয় করে আপনি বিক্রি করতে পারেন। এ ব্যবসায় লাভ অনেক বেশি। আর পণ্য ক্রয় করার সময় ঐ সমস্ত পণ্য বাছাই করবেন যে সমস্ত পণ্য ক্রয় করে বেশি। তাহলে এই ব্যবসায় লস খাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

৫. কফি শপের দোকান দিতে পারেন

চায়ের মত কফির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষ বর্তমানে কফি খেতে পছন্দ করে। আশা করি এর চাহিদা দিন দিন বাড়বে কখনো কমবে না। তাই আপনি ৫০০০ টাকার পুঁজি হিসেবে একটি কফি শপ খুলতে পারেন। আর কফি শপ খোলার ক্ষেত্রে অবশ্যই স্থানের দিকে বেশি গুরুত্ব দিবেন।

অর্থাৎ এমন একটি স্থান বাছাই করবেন যেখানে লোক সমাগম বেশি। যেমন বাজার- ঘাট , শহরতলী ও বাসস্ট্যান্ড ইত্যাদি। এই সমস্ত স্থানে কফি শপ দিতে পারলে খুব অল্প সময় আপনি সফলতার উচ্চশিখরে পৌঁছে যাবেন। অতএব আপনি অবশ্যই ভালোভাবে এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন কফি শপ দেয়ার ক্ষেত্রে।

৬. ৫০০০ টাকায় ব্যবসা হিসেবে ফলের জুসের দোকান দিতে পারেন

৫০০০ টাকায় ব্যবসা

ফলের জুস সকলেই খেতে পছন্দ করে। এর চাহিদা অনেক বেশি। দিন দিন এর চাহিদা বাড়বে কমবে না। অতএব আপনি 5000 টাকায় পুঁজি হিসেবে ফলের রসের দোকান দিতে পারেন।

এ ব্যবসায় সফল হওয়ার মূল কৌশল হলো : সিজন ওয়ারি ফলের জুস করা। কেননা সিজন ওয়ারি ফল ক্ষেতে মানুষ বেশি পছন্দ করে। পাশাপাশি দোকান দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই লোক সমাগম স্থানে দোকান নির্বাচন করা। এর দ্বারা আপনি খুব সহজেই সফলতা লাভ করতে পারবেন।

৭. সিজেন ওয়ারী ফল এর ব্যবসা করা

ফলের চাহিদা অনেক বেশি। সকলেই ফল খেতে অনেক পছন্দ করে। তাই আপনি যে ফলের যখন চাহিদা ঐ সমস্ত ফল বিক্রি করতে পারেন। যেমন : আমের সময় আম বিক্রি করা , লিচুর সময় লিচু বিক্রি করা , কাঁঠালের সময় কাঁঠাল বিক্রি করা , পিষ্ফল এর সময় পিস্ফল বিক্রি করা ইত্যাদি।

মোটকথা আপনি 5000 টাকায় যে সিজনে যে ফল বিক্রি করা হয় ঐ সমস্ত ফল ক্রয় করে তা বিক্রি করতে পারেন। কেননা এ ব্যবসা করতে গেলে পুঁজি খুব কম লাগে। তাই নির্দ্বিধায় এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

পরিশেষে বলবো : উপরে ৫০০০ টাকায় ব্যবসা হিসেবে প্রায় ৭ টি ব্যবসার আইডিয়া দেয়া হলো । আশা করি আপনি ভালভাবে বুঝতে পেরেছেন। অতএব আপনি যদি 5 হাজার টাকায় ব্যবসা করতে চান তাহলে অবশ্যই উপরের আইডিয়াগুলো ফলো করতে পারেন।

তাহলে খুব সহজেই এই অল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। পাশাপাশি কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন :-

  1. কসমেটিকস পাইকারি বাজার কোথায় কোথায় রয়েছে ?
  2. ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া ১৮টি যেগুলো খুবই লাভজনক
  3. ক্ষুদ্র ব্যবসার তালিকা
  4. ঘরোয়া ব্যবসা

5000 টাকায় কি ব্যবসা করা যায়

অনেক ব্যবসা করা যায়। যেমন :
১. ফলের ব্যবসা
২. কাঁচামালের ব্যবসা 
৩. চা-কফির ব্যবসা
৪. কাগজের ঠুঙ্গা তৈরি করার ব্যবসা।
৫. ফলের জুসের ব্যবসা
৫০০০ টাকায় ব্যবসা হিসেবে আরো নানান ব্যবসা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

five × five =