আমদানি রপ্তানি ব্যবসা আইডিয়া

আপনি কি জানতে চান আমদানি রপ্তানি ব্যবসা কিভাবে করতে হয় ? আমদানি রপ্তানি ব্যবসা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। চাহিদা বেড়েই চলছে।

কেননা কোন দেশ যখন উন্নতি হয় তখন আমদানি রপ্তানি ব্যবসা তখন বেশি বিস্তার লাভ করতে থাকে। যেহেতু আমাদের দেশ উন্নতি লাভ করছে এ হিসেবে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা এর চাহিদা বেড়ে গিয়েছে।

আরো স্পষ্ট ভাবে বলতে পারি আমরা যখন কোন একটি দেশ শিল্পের দিক দিয়ে এগিয়ে যায় তখন সেই দেশে রপ্তানির চাহিদা বেড়ে যায়।

আর যখন কোন দেশের মানুষরা বেশি বেশি ক্রয় করতে থাকে। অর্থাৎ তাদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়তে থাকে তখন সেই দেশের আমদানির চাহিদা বাড়তে থাকে। এই হিসেবে আমাদের দেশে উভয়টাই পাওয়া যাচ্ছে। কেননা আমাদের দেশ উন্নতির পথে হাঁটছে।

অতএব আমদানি রপ্তানির  অনেক চাহিদা রয়েছে। তাই আজ আমি আমদানি রপ্তানি ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তথ্য দিব। এবং নানা রকম কৌশল বর্ণনা করবো। যাতে করে আপনি খুব সহজেই সফলতা অর্জন করতে পারেন।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসা

আমদানি রপ্তানি ব্যবসা আইডিয়া

আপনি যদি আমদানি রপ্তানি ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই আমদানি ব্যবসা সম্পর্কে জানতে হবে। তাই আগে আমি এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তথ্য দিব।

আমদানি রপ্তানি ব্যবসা কি ?

এটা মূলত আন্তর্জাতিক ব্যবসা। অর্থাৎ এক দেশ থেকে পণ্য কিনে অন্য দেশে বিক্রি করা। যেমন : বাংলাদেশের কোন পণ্য বিদেশে বিক্রি করা। এটাকে বলা হয় রপ্তানি।

আর বিদেশের কোন পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রি করা এটাকে বলা হয় আমদানি।

আশা করি আপনাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

কিভাবে আমদানি রপ্তানি করবেন

সর্বপ্রথম আমদানি বা রপ্তানি করার জন্য আপনাকে পণ্য নির্বাচন করতে হবে। দেখতে হবে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি। সে অনুযায়ী ব্যবসা শুরু করতে হবে।

যেসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হয়

কয়েকটি চাহিদাপূর্ণ পণ্যের তালিকা দেয়া হলো :

  • চামড়া
  • পোশাক
  • পাট
  • ঔষধ
  • হস্তশিল্প

এসমস্ত পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হয়। আরো অন্যান্য পণ্য রয়েছে। তবে সমস্ত পণ্য বেশি রপ্তানি করা হয়।

বাংলাদেশে যে সমস্ত পণ্য আমদানি করা হয়

  • গাড়ি
  • টেলিভিশন
  • মোবাইল
  • কম্পিউটার
  • ইলেকট্রিক জাতীয় নানান সামগ্রী
  • শিল্প কারখানার জন্য কাঁচামাল
  • যন্ত্রপাতি
  • ঔষধ
  • খনিজ তেল
  • পানীয় দ্রব্য
  • ভোজ্য তেল
  • খাদ্যশস্য

ইত্যাদি আরও নানান পণ্য আমাদের বাংলাদেশে আমদানি করা হয়।

যখন পণ্য নির্ণয় করা হয়ে যাবে তখন আপনাকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। ইচ্ছে করলে আপনি আমদানি ও রপ্তানির জন্য লাইসেন্স করতে পারেন। আবার ইচ্ছে করলে যে কোন একটি জন্য লাইসেন্স করতে পারেন। লাইসেন্স করার জন্য অবশ্যই আপনাকে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে নিবন্ধন করতে হবে।

আর লাইসেন্সের জন্য আপনাকে মোটামুটি তিন হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।

পাশাপাশি আপনার আরো কিছু ডকুমেন্ট লাগবে।

  • টিন সার্টিফিকেট।
  • ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি।
  • ব্যাংক প্রত্যায়ন পত্র
  • ইত্যাদি আরও কয়েকটি বিষয়।

রপ্তানি ব্যবসা করার নিয়ম

রপ্তানি করার জন্য অবশ্যই আপনাকে আমদানি কারকদের সাথে পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করতে হবে। অর্থাৎ পণ্যের মূল্য কত হবে , প্যাকিং মূল্য কত হবে , পাঠাতে খরচ কে দিবে আর নানান বিষয়। তারপর চুক্তিতে আবদ্ধ হবেন।

রপ্তানিকারক যে সমস্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন

  • পণ্যসমূহকে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে রাসকৃত হারে কন্টেইনার এবং বিমান ভাড়া সহ নানান সুবিধা দেওয়া হয়।
  • সরকারকে কোন ধরনের ট্যাক্স দিতে হয় না।
  • রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে টিআইছি শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেখানে রপ্তানি সম্পর্কে নানান বিষয়ে জানতে পারবে।
  • রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক মালায় অংশগ্রহণ করার জন্য নানান সুবিধা পেয়ে থাকে।

আরো নানান সুবিধা রয়েছে রপ্তানির ক্ষেত্রে।

পণ্য আমদানি করার নিয়ম

পণ্য আমদানি করার জন্য অবশ্যই আপনাকে আপনার চাহিদা কৃত পণ্য সমুহের বিক্রেতাদের সাথে কন্টাক্ট করতে হবে। পণ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। পাশাপাশি পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত যে খরচ হবে এ সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।

আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • পরিপূর্ণ ধারণা নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করতে হবে। অন্যথায় সফল হওয়া যাবেনা।
  • কোন ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যবসা করবেন তা ভালোভাবে নির্ণয় করতে হবে।
  • অবশ্যই ব্যাংকের হিসাব খুলতে হবে। কারণ এখানে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হবে বেশি।
  • যে দেশে সাথে আপনি ব্যবসা করতে যাচ্ছেন অবশ্যই সে দেশের ভাষা ভালোভাবে জানতে হবে। তবে আপনি যদি ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হন তাহলে আর কোন সমস্যা হবে না।
  • তাই অবশ্যই আপনাকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
  • সবার সাথে যোগাযোগের দক্ষতা থাকতে হবে। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক থাকতে হবে। তাহলে খুব সহজেই সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

এই সমস্ত বিষয়গুলো ফলো করার আশা করি আপনি খুব সহজেই এই ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

পরিশেষে বলবো : উপরে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। আশা করি আপনি এর সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা পেয়েছেন। যদি এই লেখাটি ভালো লেগে থাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন :-

  1. কসমেটিকস পাইকারি বাজার কোথায় কোথায় রয়েছে ?
  2. ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া ১৮টি যেগুলো খুবই লাভজনক
  3. ক্ষুদ্র ব্যবসার তালিকা
  4. ঘরোয়া ব্যবসা

Leave a Reply

Your email address will not be published.

five × 2 =