বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

আপনি কি জানতে চান বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম ? মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে বিকাশ। নানা প্রয়োজনে আমাদের বিকাশ অনেক কাজে লাগে।

বিকাশ একাউন্ট খোলা অনেক সহজ। ঘরে বসে খুব সহজে একাউন্ট খুলতে পারবেন। আজ আমি বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। যাতে করে খুব সহজে একাউন্ট খুলতে পারেন।

বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম
বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে যারা আগে আমরা জানবো বিকাশ কি ? সুবিধা কি ? তাহলে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে।

বিকাশ কি ?

বিকাশ হল একটি ব্র্যাক ব্যাংক। মুহুর্তের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শহর হোক অথবা গ্রাম হোক প্রিয়জনদের কাছে টাকা পাঠানো যায়। লেনদেন করা অনেক সহজ। ভরসার উচ্চ শিখরে পৌঁছে গেছে। যে কেউ এই বিকাশ ব্যবহার করতে পারে। সুযোগ সুবিধা অনেক রয়েছে। 2011 সাল থেকে বাংলাদেশে এর প্রচার প্রসার ঘটেছে।

বিকাশ একাউন্ট খোলার সুবিধা সমূহ

বিকাশ একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে নানারকম সুবিধা রয়েছে। সুবিধাগুলো হলো এই : 

  • আমরা একই স্থান থেকে আরেক স্থানে মুহুর্তের মাঝে টাকা পাঠাতে পারি।
  • ব্যাংক হিসেবে আমরা টাকা জমা রাখতে পারি
  • বিকাশের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ধরনের বিল দিতে পারি: বিদ্যুৎ বিল , পানির বিল , ইন্টারনেট বিল ইত্যাদি নানান ধরনের বিল দিতে পারি।
  • বিকাশের মাধ্যমে নানা রকমের পণ্য কেনাকাটা করতে পারি।
  • বিকাশের মাধ্যমে আমরা টাকা তুলতে পারি।
  • বিকাশের মাধ্যমে আমরা বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা উঠাতে পারি।
  • বিকাশের মাধ্যমে আমরা মোবাইল রিচার্জ করতে পারে যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ । এখানে কোন ধরনের বাড়তি চার্জ কাটে না।

ইত্যাদি আরো নানা রকম উপকার লাভ করি এই বিকাশের মাধ্যমে।

বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ একাউন্ট দুই ভাবে খুলতে পারি।

  • অ্যাপের মাধ্যমে
  • এজেন্টের মাধ্যমে

অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার পূর্বে যে সমস্ত বিষয় অবশ্যই উপস্থিতি রাখতে হবে।

  • মোবাইল নাম্বার লাগবে যে নাম্বারটা একটিভ থাকবে।
  • ইন্টারনেট থাকতে হবে
  • মোবাইল থাকতে হবে। মোবাইলটি স্মার্টফোন হতে হবে।
  • জাতীয় পরিচয় পত্র লাগবে।

এরপর সর্বপ্রথম বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করবেন। বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

এরপর ডাউনলোড করে ইন্সটল করুন।  এরপর লগইন অথবা রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করুন । তারপর যে নাম্বার দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খুলতে চান সেই নাম্বারটি দিন। এরপর আপনার মোবাইলে একটি ওটিপি নাম্বার আসবে ।

যে নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খুলছেন সে নাম্বারটা যদি আপনার মোবাইলে একটিভ থাকে তাহলে অটোমেটিকভাবে কোডটি বিকাশ অ্যাপের মধ্যে গ্রহণ করে নেবে। এরপর আপনি কনফার্ম অপশনে ক্লিক করুন।

তারপর হলো জন্ম নিবন্ধন সাবমিট করার পালা। এর জন্য সর্বপ্রথম জন্মনিবন্ধনের first-page ছবি তুলে সাবমিট করুন।

তারপর আবার দ্বিতীয় পেজ ছবি তোলে সাবমিট করুন। তারপর যার এনআইডি দিয়ে একাউন্ট খুলছেন তার একটি সেলফি ছবি তুলতে হবে। যখন আপনি সেলফি ছবি তুলে সাবমিট করবেন তখন আপনার অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়ে যাবে। এই কাজটি আপনি ঘরে বসেই করতে পারবেন।

এজেন্টের মাধ্যমে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

নিজে না খুলে এজেন্টের মাধ্যমে আপনি বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবেন।

এজেন্টের মাধ্যমে খোলার জন্য আপনাকে কয়েকটি জিনিস উপস্থিত রাখতে হবে।

  • দুইটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি
  • একটিভ মোবাইল নাম্বার

উপরে উল্লেখিত জিনিসগুলো নিয়ে বিকাশ এজেন্টের কাছে যাবেন। তারা আপনার একাউন্ট খুলে দিবে।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

অর্থাৎ যারা বিকাশ এর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল। এরা ক্যাশ আউট , ক্যাশ ইন ইত্যাদি নানা রকম সেবা প্রদান করে থাকে। যারা এজেন্ট হন তাদের জন্য আলাদা পার্সেন্টেজ থাকে। ধীরে ধীরে এ ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য কয়েকটি জিনিস উপস্থিত থাকতে হবে।

  • দুইটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি
  • একটিভ মোবাইল নাম্বার
  • আপনার ব্যবসার নাম
  • ট্রেড লাইসেন্স

এ সমস্ত জিনিস আপনি বিকাশ এর যারা এজেন্ট রয়েছে তাদের কাছে জমা দিলেই তারা প্রসেসিং করে দিবে।

পরিশেষে বলব : উপরে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। যদি এই বিষয়গুলো step-by-step ফলো করেন তাহলে খুব সহজেই কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবেন। যদি এই লেখাটা আপনার ভাল লাগে এবং উপকার দিয়ে থাকে তাহলে শেয়ার করবেন। কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন : অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

বিকাশ এজেন্ট হতে কত টাকা লাগে ?

বিকাশ এজেন্ট হতে নির্দিষ্ট কোন টাকা লাগে না। যে কেউ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

five × four =