ফরজ গোসলের নিয়ম

আপনি কি জানতে চান ফরজ গোসলের নিয়ম ? কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন : নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তওবা কারি এবং পবিত্রতা অর্জনকারীকে ভালবাসেন। হাদীস শরীফে এসেছে : পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।

অতএব সবসময় আমাদেরকে পবিত্রতা থাকতে হবে। আর পবিত্রতা বলা হয় : প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নাপাকি থেকে বেঁচে থাকা বা দূর করাই হল পবিত্রতা। স্বপ্নদোষ, স্ত্রী সহবাস ইত্যাদির কারণে গোসল ফরজ হয়।

শরীর নাপাক হয়ে যায়। ফলে ফরজ গোসল করতে হয়। যদি ঠিকমতো গোসল না করা হয় তাহলে শরীর নাপাক থাকবে শরীর পবিত্রতা হবে না। আমাদের অবশ্যই শরীফ পবিত্র রাখতে হবে।

আজ ফরজ গোসলের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। যাতে করে আপনি নিয়ম জেনে শরীরকে পবিত্র করতে পারেন।

ফরজ গোসলের নিয়ম
ফরজ গোসলের নিয়ম

ফরজ গোসলের নিয়ম

গোসলের নিয়ম জানার আগে জানতে হবে কি কি কারণে গোসল ফরয হয়। তাহলে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে।

গোসল ফরজ হওয়ার কারণসমূহ

  • স্ত্রী সহবাস করলে
  • স্বপ্নদোষ হলে
  • হায়েয বা ঋতুস্রাব হলে
  • নেফাস হলে ( সন্তান প্রসবের পর যে রক্ত স্রাব হয় তা শেষ হলে)

এ সমস্ত কারণে গোসল ফরয হয়। গোসল ফরজ হলে অবশ্যই আপনাকে ভালভাবে নিয়ম মেনে গোসল করতে হবে।

বিস্তারিতভাবে ফরজ গোসলের নিয়ম

প্রথমে পেশাব বা পায়খানার প্রয়োজন থাকলে তা পূর্ণ করা। প্রয়োজন না থাকলেও করা। এর দ্বারা ভিতরের নাপাকি বের হয়ে যায়। এরপর গোসলের জন্য মনে মনে নিয়ত করা। তারপর বিসমিল্লাহ বলে শুরু করবেন।

এরপর হাত উভয় কব্জি পর্যন্ত ধৌত করবেন। তারপর যে সমস্ত স্থানে নাপাক লেগে রয়েছে বাম হাত দ্বারা পরিষ্কার করবেন পানি ঢেলে ( চাই সেটা শরীর হোক অথবা জামা হোক)। ভালোভাবে ডলাডলি করে পরিষ্কার করবেন যাতে করলে নাপাকি একেবারে চলে যায়।

এরপর বাম হাত আবার পরিষ্কার করবেন। তারপর নামাজের অজুর মতো অজু করবেন। বিশেষ করে তিনবার কুলি করবেন এবং তিনবার নাকে পানি দিবেন। কেননা কলি করা ও নাকে পানি দেওয়া গোসলের মধ্যে ফরজ।

যদি হাতে আংটি থাকে তা ভালোভাবে নেড়ে চেড়ে পানি পৌছানো। এরপর সমস্ত শরীর ভালভাবে ধৌত করবেন। যাতে করে শরীরের কোন একটি স্থান ও বাকি না থাকে।

চুলের গোড়ায় ও দাড়ির মধ্যে ভালোভাবে নেড়ে চেড়ে পানি পৌঁছাবেন। কানের ছিদ্র , নাভি , বগল ইত্যাদিতে ভালোভাবে পানি পৌঁছাবেন। মোটকথা কোন স্থান যেন শুকানো না থাকে। প্রতিটি স্থান ভালোভাবে ডলা-ডলি করে পানি পৌঁছাবেন।

মেয়েদের ক্ষেত্রে খোপা খোলা দরকার নেই শুধু চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছালে যথেষ্ট। ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে অবহেলা করবেন না। এতে শরীর পবিত্র না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখানে মনোযোগ সহকারে গোসল করবেন।

আমাদের নবী সাল্লাহু সাল্লাম যেভাবে গোসল করতেন 

হযরত মায়মুনা রাযিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাম এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তা দিয়ে জানাবাতের গোসল করেন। ( জানাবাত তথা অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার গোসল। )

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্র হাতে নিয়ে নিজের ডান হাতের ওপর কাৎ করে তা 2-3 বার ধৌত করেন। এরপর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর লজ্জা স্থানের উপর পানি ঢালেন। তারপর বাম হাত ধৌত করেন।

এরপর তিনি মাটির উপর হাত ঘষে পানি দিয়ে ধৌত করেন। এরপর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুলি করেন এবং নাক পরিষ্কার করেন।

তারপর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত মুখমন্ডল ও দুই হাত ধৌত করেন।

এরপর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মাথা ও সারা শরীরে পানি ঢালেন। অতঃপর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে স্থানে গোসল করছিলেন সেই স্থান থেকে অল্প দূরে সরে গিয়ে উভয় পা ধৌত করা। (আবু দাউদ শরীফ হাদিস নাম্বার : ২৪৫)

এভাবেই ছিল আমাদের নবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের গোসল। অতএব আমাদেরকেও এরকম ভাবে নিয়ম মেনে গোসল করতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রত্যেকটি মুমিনের উচিত গোসলের নিয়ম জেনে সে অনুযায়ি গোসল করা । যাতে করে শরির পবিত্র হয় ।

পরিশেষে বলব : উপরে ফরজ গোসলের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। অতএব আপনি যদি সঠিকভাবে ফরজ গোসল করতে চান এবং নিজের শরীরকে অপবিত্র করতে চান তাহলে উপরের নিয়ম গুলো সঠিকভাবে ফলো করবেন।

তাহলে আপনি আপনার শরীরকে অপবিত্র করতে পারবেন। যদি এই লেখাটি আপনার ভালো লাগে এবং উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

2 × one =