ফজরের নামাজের নিয়ম

আপনি কি ফজরের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান ? ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে থেকে অন্যতম ভিত্তি হলো নামাজ। এর গুরুত্ব অনেক। নামাজ আদায় করা ফরজ। প্রতিদিন নামাজ 5 ওয়াক্ত আদায় করা হয়।

কোরআন শরিফে আল্লাহ তাআলা প্রায় 82 জায়গায় নামাজের কথা উল্লেখ করেছেন। এর দ্বারা বুঝা যায় নামাজের গুরুত্ব কত । এই নামাজের মাধ্যমে একজন মুসলিম এবং অমুসলিম এর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

যাই হোক আজ আমি ফজরের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। যাতে নিয়ম জেনে সঠিকভাবে আদায় করতে পারেন।

ফজরের নামাজের নিয়ম
ফজরের নামাজের নিয়ম

ফজরের নামাজের নিয়ম

নিয়ম বলার আগে আমি আলোচনা করব ফজর নামাজের গুরুত্ব নিয়ে এবং সময় নিয়ে। তাহলে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। নামাজের গুরুত্ব বাড়বে এবং সঠিক মত নামাজ পড়তে পারবেন।

ফজর নামাজের গুরুত্ব

আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে বলেন : সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে নিয়ে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ আদায় করো। এবং ফজরের কুরআন। নিশ্চয়ই ফজরের কোরআন ফেরেশতাদের উপস্থিতির সময়। এখানে ফজরের কোরআন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফজরের নামাজ।(সুরা বনি ইসরাইল :৭৮)

কোরআনে আল্লাহ তাআলা ফজর নামাজ সম্পর্কে আদেশ দিয়েছেন। বোঝা গেল ফজরের নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি।

হযরত জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে সে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার জিম্মায় থাকবে (মুসলিম শরীফ : হাদিস নাম্বারঃ (৬৫৭)

যারা মুমিন মুসলমান তারা ফজরের সময় আরামের ঘুম ত্যাগ করে বিছানা ছেড়ে অজু করে ফজরের নামাজ আদায় করে । 

আমাদের নবী হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দিল সে কুফরি করল।

ফজরের নামাজের সময়

আল্লাহ তাআলা কুরআন শরীফে বলেন : তুমি নামাজ আদায় করো দিনের দুই প্রান্তে রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর। নিশ্চয়ই সৎকর্ম অসৎকর্ম কে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য উপদেশ। (সূরা হুদ: ১১৪)

আল্লাহ তায়ালা এভাবেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় উল্লেখ করেছে। বিশেষভাবে ফজরের কথা গুরুত্বের সাথে বলেছেন। কেননা ফজরের সময় ফেরেশতারা উপস্থিত হয়।

ফজরের নামাজ কয় রাকাত ?

ফজরের নামাজ মোট ৪ রাকাত। দুই রাকাত হল সুন্নত এবং দুই রাকাত হল ফরজ।

সর্বপ্রথম দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করতে হবে। তারপর দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে।

দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করার নিয়ম

ফজরের নামাজের নিয়ত

সর্বপ্রথম নামাজের নিয়ত করবে। নিয়ত আপনি আরবিতে করতে পারেন আবার বাংলাতেও করতে পারেন।

বাংলা নিয়ত : 

আমি কেবলা মুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করছি। তারপর আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাঁধবেন। তারপর সানা পড়বেন।

এরপর আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়বেন। এরপর সূরা ফাতিহা পড়বেন। তারপর যে কোন একটি সূরা মেলাবেন। এরপর রুকু করবেন এবং রুকুর তাসবীহ গুলো পড়বেন । তারপর রুকু থেকে উঠে সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা রব্বানা লাকাল হামদ বলবেন। তারপর সেজদা করবেন।

সিজদার তাসবীহ গুলো পড়বেন। তারপর সেজদা থেকে উঠবেন। এরপর বসবেন। আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি এই দোয়াটি পড়বেন। তারপর আবার সেজদা করবেন। তারপর দ্বিতীয় রাকাতে জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠে যাবেন।এভাবে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।

তারপর আবার দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন। বিসমিল্লাহ বলবেন তারপর সূরা ফাতিহা বলবেন। তারপর যে কোন একটি সূরা মিলাবেন।এরপর রুকু করবেন এবং রুকুর তাসবীহ গুলো পড়বেন ।

তারপর রুকু থেকে উঠে সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা রব্বানা লাকাল হামদ বলবেন। তারপর সেজদা করবেন। সিজদার তাসবীহ গুলো পড়বেন। তারপর সেজদা থেকে উঠবেন। এরপর বসবেন। আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি এই দোয়াটি পড়বেন। তারপর আবার সেজদা করবেন।

তারপর সেজদা থেকে উঠে শেষ বৈঠক করবেন। এরপরে তাশাহুদ পড়বেন তারপর দুরুদ শরীফ পড়বেন। এরপর দোয়ায়ে মাসুরা পড়বেন। এরপর ডান থেকে বাম দিকে সালাম ফিরাবেন।

এভাবেই ফজরের নামাজের নিয়ম অর্থাৎ ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ শেষ করবেন।

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ শেষ হয়ে গেলে এখন বাকি ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ।

ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত এর মতই। তবুও বিস্তারিত বলে দিচ্ছি।

সর্বপ্রথম নামাজের নিয়ত করবে। নিয়ত আপনি আরবিতে করতে পারেন আবার বাংলাতেও করতে পারেন।

বাংলা নিয়ত : 

আমি কেবলা মুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করছি। তারপর আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাঁধবেন। 

তারপর সানা পড়বেন। এরপর আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়বেন। এরপর সূরা ফাতিহা পড়বেন। তারপর যে কোন একটি সূরা মেলাবেন। দির্ঘ সুরা পরবেন । 

তারপর রুকু করবেন এবং রুকুর তাসবীহ গুলো পড়বেন । তারপর রুকু থেকে উঠে সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা রব্বানা লাকাল হামদ বলবেন। তারপর সেজদা করবেন।

সিজদার তাসবীহ গুলো পড়বেন। তারপর সেজদা থেকে উঠবেন। এরপর বসবেন। আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি এই দোয়াটি পড়বেন। তারপর আবার সেজদা করবেন। তারপর দ্বিতীয় রাকাতে জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠে যাবেন।এভাবে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।

তারপর আবার দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন। বিসমিল্লাহ বলবেন তারপর সূরা ফাতিহা বলবেন। তারপর যে কোন একটি সূরা মিলাবেন। এরপর রুকু করবেন এবং রুকুর তাসবীহ গুলো পড়বেন ।

তারপর রুকু থেকে উঠে সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা রব্বানা লাকাল হামদ বলবেন। তারপর সেজদা করবেন। সিজদার তাসবীহ গুলো পড়বেন। তারপর সেজদা থেকে উঠবেন।

এরপর বসবেন। আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি এই দোয়াটি পড়বেন। তারপর আবার সেজদা করবেন। তারপর সেজদা থেকে উঠে শেষ বৈঠক করবেন। এরপরে তাশাহুদ পড়বেন তারপর দুরুদ শরীফ পড়বেন। এরপর দোয়ায়ে মাসুরা পড়বেন। এরপর ডান থেকে বাম দিকে সালাম ফিরাবেন। ফজরের নামাজের নিয়ম অর্থাৎ ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ শেষ করবেন।

এভাবেই ফজরের সুন্নত এবং ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করবেন।

পরিশেষে বলব : আমি উপরে বিস্তারিতভাবে ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে বললাম। যদি বিষয় গুলা ফলো করেন তাহলে অবশ্যই আপনি খুব সুন্দর ভাবে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ও ফরজ নামাজ আদায় করতে পারবেন। যদি লেখাটি আপনার উপকারে দিয়ে থাকে। এবং ভালো লেগে থাকে অবশ্যই জানাবেন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন :

Leave a Comment