জানাজার নামাজের নিয়ম

আপনি কি জানতে চান জানাজার নামাজের নিয়ম ? মৃত্যু অনিবার্য। কেউ মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে না। কেননা কোরআনের মধ্যে আছে : প্রতিটা প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। নির্দিষ্ট একটি সময়ে পর সবাই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।

কোন একজন মুসলমান যখন মৃত্যুবরণ করে , তাকে কবর দেওয়ার পূর্বে যে বিশেষ দোয়া করা হয় আর নামাজ আকারে তাকে বলা হয় জানাজার নামাজ। এই নামাজটা মুসলমানদের জন্য আদায় করা ফরজে কেফায়া।

অর্থাৎ কোন এলাকার বা একটি সমাজের পক্ষ থেকে একজন আদায় করলেই সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। জানাযার মধ্যে যদি লোক সংখ্যা বেশি হয় তাহলে মুস্তাহাব। কাতার গুলো বেজোড় হওয়া ভালো।

জানাজার নামাজের কোন কাজা নামাজ নেই। আজ আমি জানাজার নামাজের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। যাতে করে সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।

জানাজার নামাজের নিয়ম

জানাজার নামাজের নিয়ম

সর্বপ্রথম মৃত ব্যক্তিকে ইমাম সাহেব ও মুসল্লিরা দাঁড়াবেন। ইমাম সাহেব দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে একটি নিয়ম রয়েছে । সেটা হল : মৃত ব্যক্তি যদি পুরুষ হয় তাহলে ইমাম সাহেব মৃত ব্যক্তির মাথা বরাবর দাঁড়াবেন। আর যদি মৃত ব্যক্তি মহিলা হয় তাহলে ইমাম সাহেব মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়াবেন।

তারপর মুসল্লীরা অন্যান্য নামাজের মত উঁচু করে ইমাম সাহেবের পিছনে দাঁড়াবেন। এরপর সবাই নিয়ত করবেন।

জানাজার নামাজের নিয়ত

নিয়ত আরবিতে করতে পারেন আবার বাংলাও করতে পারেন।

আরবি নিয়ত 

জানাজার নামাজের আরবি নিয়ত

আরবি নিয়তের বাংলা উচ্চারণ :

নাওয়াই তুয়ান উয়াদ্দীয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবাআ তাকবীরাতি সালাতিল জানাযাতি ফারদাল কিফায়াতি অছ্ছানায়ু লিল্লাহি তায়ালা অসসালাতু আলান্নাবিয়ী অদ্দুয়ায়ু লিহাযাল মাইয়্যিতি ইকতাদাইতু বিহাযাল ইমামি মোতাওজ্জিহান ইলাজিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

বাংলা নিয়ত : আমি ফরজে কেফায়া জানাজার নামাজ চার তাকবীরে কেবলা মুখী হয়ে উক্ত ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার উদ্দেশ্যে আদায় করতেছি। আল্লাহু আকবার।

২য় স্টেপ জানাজার নামাজের নিয়ম

নিয়ত করার পর কানের লতি পর্যন্ত দুই হাত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাঁধবেন। এবং অন্যান্য নামাজের মত ডান হাত বাম হাতের উপরে রাখবেন। এরপর সানা পড়বেন

জানাজার নামাজের সানা

আরবিতে সানা

জানাজার নামাজের সানা

বাংলা উচ্চারণ : সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবিহামদিকা অতাবারা কাসমুকা অতায়ালা জাদ্দুকা অজাল্লা সানায়ুকা অলাইলাহা গইরুক ।

সানা পড়ার পরে আল্লাহু আকবার বলে দুরুদ শরীফ পড়তে হবে। আর দরুদ শরীফ বলতে দুরুদে ইব্রাহীম পড়া। দুরুদে ইব্রাহীম পড়া হয়ে গেলে আবার তৃতীয় তাকবীর বলে জানাযার দোয়া পড়া।

জানাজার নামাজের দোয়া

জানাজার নামাজের তিন ধরনের দোয়া হয়েছে। বালেগ পুরুষ এবং মহিলা এক ধরনের দোয়া। নাবালক ছেলের এক ধরনের দোয়া এবং নাবালিকা মেয়ের এক ধরনের দোয়া।

মৃত ব্যক্তি যদি বালেগ পুরুষ এবং মহিলা হয়

এক্ষেত্রে আরবি দোয়া হল :

জানাজার নামাজের দোয়া

বাংলায় উচ্চারণ : 

আল্লাহুম্মাগফিরলী হাইয়্যিনা অমাইয়্যিতিনা অশাহিদিনা অগায়িবীণা অছগীরীনা অকাবিরিনা অযাকারিনা অউনছানা আললাহুমমা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম অমান তাঅফ্ফাইতাহু মিন্না ফাতাঅফ্ফাহু আলাল ইমান।

নাবালক ছেলের জানাযার দোয়া :

আরবি দোয়া

জানাজার নামাজের দোয়া

বাংলা উচ্চারণ : আললাহুমমাজ আলহুলানা ফারতাও অজআলহুলানা আজরও অযুখরও অজাআলহুলানা সাফিআও অমুশাফ্ফাআ।

নাবালেগ মেয়ের জানাযার দোয়া

আরবি দোয়া

জানাজার নামাজের দোয়া

বাংলা উচ্চারণ

 আললাহুমমাজ আলহালানা ফারতাও অজআলহালানা আজরও অযুখরও অজাআলহালানা সাফিআও অমুশাফ্ফাআহ।

দুয়া পড়া শেষ হলে এরপর চতুর্থ তাকবীর বলে ডান দিকে বাম বাম দিকে সালাম ফিরাবেন।

এভাবেই নামাজ শেষ করবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : নামাজ শুরু করার পর সর্বপ্রথম যখন তাকবীর বলে হাত বাঁধবেন তখন একমাত্র দুই হাত কান পর্যন্ত উঠাবেন। তারপর থেকে যতবার তাকবীর বলবেন ততবার মনে মনে তাকবীর বলবেন হাত কান পর্যন্ত উঠাবেন না।

অর্থাৎ দুরুদ শরীফ পড়ার আগে , দোয়া পড়ার আগে , সালাম ফিরানোর আগে যে তাকবীর গুলো বলা হয় এই তাকবীর গুলো বলার সময় হাত কান পর্যন্ত উঠাবেন না বরং মনে মনে তাকবীর বলবেন।

জানাজার নামাজের ফজিলত

জানাজার নামাজে অনেক ফজিলত রয়েছে। অতএব আপনি যদি সুযোগ পান জানাজার নামাজ ছেড়ে দিবেন না। এ ব্যাপারে হাদীসে এসেছে যে ব্যক্তি জানাযার নামায আদায় করবে তার ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সওয়াব হবে।

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন একজন মুসলমান অপর মুসলমানের উপর পাঁচটি হক হয়েছে : পাঁচ নাম্বার হক হল কোন মুসলমান মারা গেলে বা মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজায় শরিক হওয়া।

পরিশেষে বলব : উপরে জানাজার নামাজের বিস্তারিত নিয়ম বলা হয়েছে। অতএব আপনি যদি উক্ত নিয়মগুলো ফলো করেন তাহলে খুব সহজেই জানাজার নামাজ আদায় করতে পারবেন। যদি লেখাটি আপনাদের উপকারে দিয়ে থাকে এবং ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই জানাবেন। আপনার বন্ধু বান্ধবদের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন : রমজানের ফজিলত ও আমল

জানাজার নামাজের ইমামতির নিয়ম

ইমামের আলাদা কোনো নিয়ম নেই। এতটুক পার্থক্য আছে যে , ইমাম জোরে জোরে তাকবীর বলবে আর মুক্তাদিরা মনে-মনে তাকবীর বলবে। আর কোন পার্থক্য নেই অর্থাৎ ইমামের দোয়া পড়তে হবে মুক্তাদির জন্য দোয়া পড়তে হবে।

জানাজার নামাজ কি ফরজ ?

মুসলমানদের জন্য আদায় করা ফরজে কেফায়া। অর্থাৎ কোন এলাকার বা একটি সমাজের পক্ষ থেকে একজন আদায় করলেই সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published.

seven + three =