মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি ?

অপনি মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি জানতে চান ? বেশি মোটা হলে যেমন নিজের কাছে অস্বস্তি লাগে, অনুরূপ অতিরিক্ত চিকন হলেও দেখতে বেমানান লাগে।

তবে মোটা শব্দটি আমাদের কারো কাছে একটু বেশি বিরক্তিকর হলেও কারো কাছে আবার মোটা হওয়া একটি কাঙ্খিত বিষয়।

কারণ তারা অতিরিক্ত চিকন হওয়ার দরুন , নিজেদের অজান্তে হারিয়ে গিয়ে,নিজের নামটি শুনতে হয় শুটকি, পাটকাঠি, কঙ্কাল, রোগী ইত্যাদি আবার অনেকে এমনও কথা শুনতে হয় যে, কিরে তোদের ঘরে ভাত নেই ,বাতাসে উড়ে যাবি তো ,কতদিন যাবৎ ভাত খাও না ইত্যাদি।

আবার অনেকের তো এমন‌ও হয় পাত্র বা পাত্রী পক্ষ দেখতে এসে ছেলে বা মেয়েকে বলে বেশি চিন্তা করো নাকি, অসুস্থ নাকি ইত্যাদি বিরক্তিকর কথা।

এছাড়াও চিকনা শরীর এর কারনে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাসেরও ঘাটতি হয়। বয়স আর উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হওয়া বা আন্ডার ওয়েট হওয়া কিন্তু খুব সমস্যার ব্যাপার। আজ আমি মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি এব্যপারে কিছু টিপস দিব ।

তাই নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এবং মানুষকে নিজের ব্যঙ্গ নামে ডাকা থেকে বিরত রাখতে চাইলে আপনাকে এই কয়েকটি টিপস ফলো করতে হবে।

মোটা হওয়ার সহজ উপায়

মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি ?

আমি এখানে ১১টি উপায় বলব যদি এগুলো ফলো করেন । তাহলে ১০০% আপনি স্বাস্থবান হবেন ।

ওজন কমে যাওয়ার কারণ

যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্পর্কে অবগত হওয়ার পূর্বে ওই সমস্যার কারণ সম্পর্কে অবগত হওয়া অতি আবশ্যক। চলুন জেনে নেই যে সকল কারণে ওজন কমে যায় যেমন:

  • অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কাজ
  • অধিক চিন্তা
  • অতিরিক্ত ধূমপান
  • ঠিকমতো খাবার না খাওয়া
  • মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
  • ফুসফুসের সমস্যা
  • কিডনি সমস্যা
  • ডায়াবেটিস

ইত্যাদি এছাড়াও বয়সের জন্য ওজন কম বেশী হয়ে থাকে। শরীরের ওজন কমে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো স্ট্রেস । ওজন বাড়ানোর জন্য সর্ব প্রথম শর্ত হলো স্ট্রেস বা অতিরিক্ত কাজের চাপ থেকে মুক্ত হতে হবে ।

১. মোটা হওয়ার সহজ উপায় হলো ব্যায়াম করা

হ্যা, আপনি সঠিক পড়েছেন, আমরা সকলেই এটা জানি যে, স্বাস্থ্য বা ওজন কমাতে ব্যায়াম করতে হয়। কিন্তু এই ধারনাটি মোটেও সঠিক নয়। ওজন কমাতে যেরূপ ব্যায়াম করা আবশ্যক, অনুরূপ ওজন বাড়াতেও ব্যায়াম করা অতি জরুরী।

এক্ষেত্রে শুধু দৌড়াদৌড়ি বা হাটাহাটি যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় ব্যায়াম করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার আশেপাশে কোন জিমে ভর্তি হতে পারেন, সেখানে অনেক অভিজ্ঞ ট্রেইনার থাকে,

তারা আপনার বডি ফিটনেস ঠিক করতে যা প্রয়োজন সেগুলো বলে দিবে। অথবা আপনি ইউটিউব থেকেও শিখে নিতে পারেন। সেখানে বডি ফিটনেস করার অনেক ভিডিও পাবেন। সেগুলো দেখে দেখে বাড়িতে প্র্যাকটিস করবেন।

২. নিয়মিত বা সঠিক সময় খাবার আহার করা

মোটা হতে চাইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সময় মতো খাবার খাওয়া । এটি স্বাস্থ্যবান হওয়ার আসল উপায়। আপনি মোটা হওয়ার জন্য যতই চেষ্টা করুন না কেন ,যদি আপনি নিয়মিত বা সময় মত খাবার না খান, কস্মিনকালেও আপনি মোটা হতে পারবেন না।

অতএব আপনি সকালের খাবার সকালে অর্থাৎ আটটা থেকে নয়টার মধ্যে খেয়ে ফেলুন। সকালের খাবার এগারটা বারোটায় খাবেন না। এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

অনুরূপ দুপুরে, রাতেও সময় মত খাবার খেয়ে নিবেন। দুপুরের খাবার 2 টা থেকে ২.৩০ এর মধ্যে খেয়ে ফেলুন। রাতের খাবার আটটা থেকে নয়টার মধ্যে সম্পন্ন করে ফেলুন।

৩. মোটা হওয়ার সহজ উপায় হলো বার বার খাবার খাওয়া

বার বার খাবার গ্রহণ করা প্রতিটি মানুষের‌ই উচিত। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর অল্প করে সামান্য কিছু খাওয়া শরীর ফিট ও হেলদি থাকার জন্য আবশ্যক।

তবে যারা ওজন বৃদ্ধি করার ইচ্ছে পোষণ করতেছেন, তারা দুই ঘন্টা পর পর পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করবেন যেমন: ডিম, দুধ, ফল, দধি,ছানা ইত্যাদি।

এতে আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টির পাশাপাশি ওজন বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। এটি মোটা হওয়ার অতি সহজ একটি উপায়।

৪. টেনশন মুক্ত থাকা

টেনশন আপনার বডি ফিটনেস নষ্ট করে দেয়। বডি ফিটনেস ঠিক রাখতে হলে অথবা বডি ফিটনেস ঠিক করতে হলে আপনাকে অবশ্যই টেনশন মুক্ত থাকতে হবে।

এছাড়া অতিরিক্ত টেনশনে বহু রোগ-ব্যাধিও হয়। আজকাল টেনশন মুক্ত থাকা বড় একটি অসাধ্য কর বিষয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। আপনাকে যেভাবেই হোক টেনশন মুক্ত থাকতে হবে।

যে সকল খাবার খেলে অতি সহজে মোটা হওয়া যায়

৫. মোটা হওয়ার সহজ উপায় হলো কিসমিস খাওয়া

মোটা হওয়ার সহজ উপায়
মোটা হওয়ার সহজ উপায়

কিসমিস মোটা হওয়ার ক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা পালন করে, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে অল্প পরিমাণে কিসমিস খেয়ে নিবেন। কিসমিসের রয়েছে প্রচুর ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ ও পোটেনশিয়াল এনার্জি।

এছাড়াও বডিবিল্ডার বা অ্যাথলিটদের ক্ষেত্রে কিসমিস খেতে বলা হয়। নিয়মিত কিসমিস খেলে সুস্থভাবে ওজন বৃদ্ধি পেতে অনেকটা সহায়ক হবে। আশা করি ভালো উপকার পাবেন।

৬. কার্বোহাইড্রেড পর্যাপ্ত পরিমাণ খাওয়া

ওজন বৃদ্ধি করতে খুবই প্রয়োজন কার্বোহাইড্রেড। খাবারের তালিকায় অবশ্যই কার্বোহাইড্রেড সম্পৃক্ত করবেন। কার্বোহাইড্রেডের প্রধান উৎস হল ভাত ও রুটি।

প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার কার্বোহাইড্রেট খাবেন। কার্বোহাইড্রেডের প্রধান উৎস ভাত‌ ও রুটি তার মানে এই নয় যে খুব বেশি খাবেন। ফ্যাটের দিকেও লক্ষ রাখবেন।

প্রতিদিন পরিমিত কার্বোহাইড্রেড খাবেন। তবে সাধারণের তুলনায় কিছুটা যেন বেশি হয়। অতি সহজে মোটা হওয়ার মধ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৭. মোটা হওয়ার সহজ উপায় হলো ক্যালোরি গ্রহণ

আমরা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বেশি ক্যালোরি বার্ন করি এবং কম পরিমাণে ক্যালোরি গ্রহণ করে থাকি। কিন্তু ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের তার উল্টো করতে হবে অর্থাৎ যতোটুকু ক্যালোরি বার্ন করবেন তার দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করবেন ।

আপনি যদি দ্রুত ওজন বৃদ্ধি করতে চান তাহলে আপনাকে প্রতিদিন 700 থেকে 800 ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। আর যদি আস্তে আস্তে ওজন বৃদ্ধি করতে চান তাহলে আপনাকে দৈনন্দিন কমপক্ষে 400 থেকে 500 ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। এই টিপসটি এক সপ্তাহ করলেই আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে।

৮. পিনাট বাটার

হাই ক্যালরিযুক্ত একটি খাবার হলো পিনাট বাটার। নিয়মিত একবার রুটি বা বিস্কুটের সঙ্গে পিনাট বাটার মিশ্রিত করে খান। তবে সাবধান এতে কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি ওজন বৃদ্ধি পায়। পরিমিত আহার করুন মাত্রাতিরিক্ত নয়।

৯.মোটা হওয়ার সহজ উপায় হলো ড্রাই ফ্রুটস

মোটা হওয়ার সহজ উপায়
মোটা হওয়ার সহজ উপায়

ড্রাই ফ্রুটসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি, যা অতি দ্রুত ওজন বৃদ্ধি করতে বড় ভূমিকা রাখে। ড্রাই ফ্রুটস এর মধ্যে রয়েছেন: খেজুর, কিসমিস, কাজুবাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদি।

এগুলো খাওয়ার নিয়ম হলো: রাতে ঘুমানোর পূর্বে একটি পিয়ালায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ড্রাই ফ্রুটস পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। সকাল বেলা ব্রেকফাস্টে সেই ড্রাই ফ্রুটস ও পানি খেয়ে নিবেন। এতে অল্প কিছু দিনে আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা রাখি।

১০. ভাতের ফ্যান খাওয়া

ভাতের ফ্যান আপনাকে দ্রুত মোটা হতে সাহায্য করবে। আমরা সাধারণত ভাতের ফ্যান ফেলে দেই, কিন্তু আমরা এ ব্যাপারে অবগত ন‌ই যে, চাল সিদ্ধ হয়ে চালের অধিকাংশ পুষ্টি উপাদান এই পানিতে মিশে যায়।

ফলে মূল ভাতের চেয়ে ভাতের ফ্যানে এ বেশি পুষ্টি তৈরি হয়। অতএব ভাতের ফ্যান না ফেলে সেটি খেয়ে ফেলুন, সেটা আপনাকে দ্রুত মোটা হতে সাহায্য করবে।

১১. মোটা হওয়ার সহজ উপায় হলো মোটা হওয়ার ভিটামিন

বর্তমানে বাজারে প্রচুর পরিমাণে ওজন বৃদ্ধি হওয়ার ভিটামিন পাওয়া যায়। সেগুলো মূলত ওজন বৃদ্ধির ঔষধ নয় বরং সেগুলো খাবারের প্রতি রুচি বৃদ্ধি পাওয়ার ঔষধ। যা খেলে আপনার মুখের রুচি বৃদ্ধি পাবে। তবে সাবধান কোন ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত রুচি বৃদ্ধি হওয়ার কোন ঔষধ সেবন করবেন না। অন্যথায় আপনার শরীরে যে কোন সমস্যা হতে পারে।

অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে কিছু বিষয়ে

আপনি বর্তমান বাজারে এমন অনেক ঔষধ পাবেন যা আপনার নিকট অতি দ্রুত মোটা হওয়ার ঔষধ বলে বিক্রি করছে, প্রকৃতপক্ষে সেগুলোতে রয়েছে মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, যার দরুন আপনার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। অতএব সাবধান ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত কোন ঔষধ গ্রহণ করবেন না।

পরিষেশে বলব : উপরে মোটা হওয়ার সহজ উপায় সম্পর্কে আলোচনা করলাম । যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই জানাবেন । ধন্যবাদ ।

আরো পড়ুন : জীবন কিভাবে সুন্দর করা যায় ?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

20 − six =