শবে বরাতের ফজিলত ও গুরুত্ব | শবে বরাতের নামাজ

আপনি কি শবে বরাতের ফজিলত জানতে চান ? শাবান মাস আসলেই মানুষের মাঝে নানা বিষয় জানার আগ্রহ হয়ে থাকে। আমরা প্রত্যেকটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব এক এক করে।

শবে বরাতের ফজিলত

শবে বরাত অর্থ কি ?

বরাত এটা ফারসি শব্দ বরং আরবি শব্দ নয়। অর্থাৎ মুক্তির রাত। সাধারণত আমরা শবে বরাত শাবান মাসের ১৫ তারিখে পালন করে থাকি।

হাদিসে ও শাবান মাসের ১৫ তারিখের কথা বলা হয়েছে । তবে শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত বলে কোরআন ও হাদীসে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি।

হাদিসে এ রাতকে বলা হয়েছে লাইলাতু নিছফি মিন শাবান। অর্থাৎ শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী।

শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস

হযরত মুআজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনীতে সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনোযোগ আরোপ করেন।

মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে আল্লাহ মাফ করে দেন। ( সহিহ ইবনে হিব্বান হাদিস নাম্বার : ৫৬৬৫ )

শবে বরাতের ফজিলত ও গুরুত্ব

১/ হযরত আয়েশা রাযিআল্লাহু তা’আলা আনহা থেকে বর্ণিত। দীর্ঘ একটা হাদিস। এই হাদীসের শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাম বললেন:

তুমি কি জানো এটা কোন রাত ? তখন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালো জানেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন এটা হল অর্ধ শাবানের রাত। আল্লাহ এরাতে তার বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন,

ক্ষমা প্রার্থনা কারীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন এবং বিদ্বেষ পোষণ কারীদের তাদের নিজ অবস্খাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান ৩/৩৮২ )

২/ রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন : আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনীতে সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনোযোগ আরোপ করেন। মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। বুঝা গেল শবে বরাত প্রমাণিত এবং এ রাত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।

শবে বরাতের নামাজ

এ রাতে নির্দিষ্ট কোন নামাজ নেই । তবে নফল নামাজ পড়তে পারেন । আর আপনি যদি নফল নামাজ পড়তে চান তাহলে অন্যান্য সময় যেভাবে নফল নামাজ পড়েন এ সময় সেইভাবেই পড়বেন। আলাদা কোন নিয়ত নাই।

শবে বরাতের রোজা কয়টি ?

 শবে বরাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রোজা নেই। তবে যদি আপনি রাখেন তাহলে সওয়াব হবে নফল রোজা হিসেবে। নির্দিষ্ট করে কোন ধরনের রোজা রাখবেন না। নফল হিসেবে রোজা রাখবেন।

শবে বরাতের আমল

শবে বরাতের আমল

শবে বরাত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। অতএব এরাতে যত বেশি পারেন ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাবেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লাম এ রাত্রিতে বেশি বেশি ইবাদত করেছেন।

এবং অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে এ রাত্রিকে উপলক্ষ করে কোন নির্দিষ্ট নামাজ নেই এবং তার পরেরদিন নির্দিষ্ট কোনো রোজা নেই। এই রাত গুরুত্ব হিসেবে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়তে পারেন তাসবিহ-তাহলিল পড়তে পারেন।

শবে বরাতে করণীয় বিষয়গুলো:

  • আমাদের তওবা করা উচিত। তওবা এ রাতের সবচেয়ে বড় আমল হতে পারে।
  • নফল নামাজ পড়া উচিত। এ ব্যাপারে নির্ধারিত কোন নামাজ নেই। যত পড়তে পারেন।
  • কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত।
  • বেশি বেশি জিকির করা উচিত।
  • এ রাত্রিতে দীর্ঘ সেজদায় রত হওয়া উচিত।

শবে বরাতে বর্জনীয় বিষয়গুলো:

  • রাতের বেলায় যে হালুয়া-রুটির আয়োজন না করা । অনেকের মুখেই এ ব্যাপারে ফজিলত শোনা যায় যে, তারা বলে এরাতে ভালো খেলে সারা বছর ভালো খাওয়া যায়। অথচ এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা কথা।
  • গোসল করা না করা । অনেকে বলে থাকেন যে এ রাতে গোসল করলে তার প্রতি ফোটার সাথে গুনাহ ঝরে যায়। অথচ এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বানোয়াট। তবে আপনি এমনিই গোসল করতে পারেন যেরকম সব সময় করে থাকেন এ। রাতকে উপলক্ষে করে গোসল করা যাবে না।
  • মিলাদ মাহফিল না করা । এভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে শবে বরাত পালন করা হাদিস থেকে প্রমাণিত নয়।
  • নামাজকে নির্দিষ্ট না করা । যেমন কিছু কিতাবে আছে শবে বরাতের রাত্রে ১২ রাকাত নামাজ। আবার কেউ বলেন শবে বরাতের রাত্রে ১০০ রাকাত নামাজ পড়তে হয়। অথচ এ নামাজের কোন ভিত্তি নেই। বরং বানোয়াট।
  • এ শবে বরাতকে কেন্দ্র করে পটকা, আতশবাজি ফোটানো যাবে না।
  • অযাথা ঘোরাফেরা করা না উচিত।
  • মসজিদের মধ্যে লাইটিং না ।

পরিশেষে বলব: উপরে শবে বরাতের ফজিলত ও গুরুত্ব কি ? ইত্যাদি নানান বিষয় আলোচনা করলাম । আশা করি এ সম্পর্কে লেখা আপনাদের ভাল লেগেছে।

যে সমস্ত বিষয় করণীয় তা আমরা পালন করব আর যে সমস্ত বিষয় বর্জনীয় তা থেকে আমরা বেঁচে থাকবো। ইনশাআল্লাহ। তাই আপনাদের মূল্যবান কমেন্ট করে আমাদেরকে উৎসাহিত করবেন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন : ইসলাম ধর্মের উৎপত্তি কোন সময় হয় ?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

13 + 19 =