ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ে টাকা ইনকাম

আপনি কি চান ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে ? বাংলাদেশের প্রায় ৫০% শিক্ষিত লোক বেকার। চাকরির বাজার খুব খারাপ অবস্থা।

কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিংকে  অনেক বেকার শিক্ষিত লোকেরা বেছে নিচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিংএর কাজের সাথে জড়িত।

ধিরে ধিরে এর চাহিদা বাড়ছে । আজ আমি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব ।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার

ফ্রিল্যান্সিং কি ? (what is freelancing)

ফ্রিল্যান্সিং কোন নির্দিষ্ট পেশা নয়। বরং স্বাধীনভাবে কাজ করার একটি অনুশীলন। অথবা এক কথায় বলা যেতে পারে মুক্ত পেশা। যে কাজে কোন নির্দিষ্ট সময় নেই।

বরং আপনি যখন ইচ্ছা তখনই করতে  পারবেন। যখন মন চাইবে না কাজ করতে তখন বাদ দিতে পারবেন। কিন্তু যে কোনো চাকরি তার বিপরীত কেননা সেখানে প্রতিদিন সময়মতো যেতে হয় ‌।

সময় মত কাজ করতে হয়। কোন কাজ মনে করতে না চাইলেও করতে হয়। তাই অধিকাংশ মানুষই এই ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে পছন্দ করে।

মূল কথা হলো ফ্রিল্যান্সিং হলো নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা,মেধা ,অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি  করে টাকা ইনকাম করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার লাভ কি ?

  1. স্বাভাবিকভাবে জবের চাইতে অনেক বেশি টাকা ইনকাম করা যায়।
  2. কাজের স্বাধীনতা রয়েছে। যখন মন চায় তখন করা যায়। কোন সময়সীমা নেই।
  3. কোন ধরনের investment করতে হয়না।
  4. কাজের কোনো নির্ধারিত সময়সীমা নেই।যত সময় বেশি দিবেন তত ইনকাম হবে।
  5. অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরে বসে কাজ করা যায়।
  6. বেশি টাকা ইনকাম করা সম্ভব কম সময় ব্যয় করেও।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করবো ?

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে আপনাকে কয়েকটি কাজ করতে হবে।

১/ নিজের চিন্তা ভাবনার পাশাপাশি লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আপনি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার পার্ট টাইম জব হিসেবে কাজ করবেন নাকি ফুলটাইম জব হিসেবে কাজ করবেন ?

এ বিষয়গুলো আপনাকে আগে চিন্তা ভাবনা করতে হবে। পাশাপাশি এটাও চিন্তা ভাবনা করতে হবে ।

আপনার এই ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী শেষ লক্ষ্য টা কি ? এটাকে কি আপনি নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে গড়তে চান ?

তাহলে আপনাকে অনেক ধৈর্য ধারণ করতে হবে সফল হওয়ার জন্য। অনেক পরিশ্রম করতে হবে সফল হওয়ার জন্য।

২/ শুরুতেই আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে  আপনি কোন বিষয় বা সাবজেক্ট নিয়ে কাজ করবেন ?

কারণ ফ্রিল্যান্সিং অনেক বিস্তৃত বিষয় যেমন: গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, এসইও প্রফেশনাল, ওয়েবসাইট ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি

আরো এরকম অনেক কাজ রয়েছে। তবে একটি শর্ত হলো . আপনি ওই বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করবেন যে বিষয়ে আপনি পরিপূর্ণ পারদর্শী।

প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং দক্ষতা রয়েছে।যে কাজ করে আপনার বিরক্ত লাগবে না বরং খুব ভালো লাগবে। বিষয় সিলেক্ট করার পূর্বে অবশ্যই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা ইনকাম করা যায়?

ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার কোন নির্ধারিত সীমা নেই। বরং আপনার ইনকাম আসবে আপনার কাজের দক্ষতার উপর।

আপনার কাজ যত ভালো হবে আপনি তত বেশি কাজ পাবেন। আর আপনি যত বেশি কাজ পাবেন আপনার তত বেশি ইনকাম হবে ?

স্বাভাবিকভাবে ফ্রিল্যান্সাররা ঘন্টা,দিন ও সপ্তাহ হিসাবে চুক্তির মাধ্যমে কাজ করে ইনকাম করে।

যার মার্কেটপ্লেসে অবস্থান যত ভালো সে তত বেশি কাজ পায় এবং ইনকাম বেশি করে। মোটকথা: যার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা বেশি সে বেশি টাকা ইনকাম করতে পারে।

আপনি কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন বা কোন নিশ নিয়ে কাজ করবেন ?

আপনি যে নিস নিয়ে বা যে টপিক নিয়ে কাজ করবেন। অবশ্যই সে টপিক নিয়ে আপনার আগে ভাবতে হবে।

পাশাপাশি আপনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কেননা যদি আন্তাজি কোন একটি টপিক নিয়ে আপনি কাজ করেন তাহলে আপনি সেখানে সফল হবেন না।

যদি আপনার কাজ ভালো না হয় বরং বায়ারদের কোন কমপ্লেন থাকে তখন আর আপনাকে কোম্পানি কোন কাজ দিবে না বরং আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড হয়ে যাবে ।

আপনাকে অবশ্যই নিস বাছাই করার জন্য তিনটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে

1/ আপনি এমন টপিক নিয়ে কাজ করবেন যে বিষয়ের উপর আপনার পূর্ণত দক্ষতা এবং জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে।

2/ এমন টপিক নিয়ে কাজ করবেন যেখানে আপনার আগ্রহ রয়েছে আপনি কখনো বোরিং হবেন না যেকোনো পরিস্থিতিতে চাই সেটা বেশি সময় লাগে অথবা কঠিন হোক। আপনি স্বাচ্ছন্দে আনন্দে কাজ করতে পারবেন।

3/এমন টপিকই বাছাই করবেন যেটার চাহিদা মার্কেটও রয়েছে। মানুষ বেশি পছন্দ করে। যেখানে বায়ার বেশি পাওয়া যায়।

মোটকথা  : অবশ্যই আপনাকে যেগুলোর নিজবা টপিক নির্বাচন করার ক্ষেত্রে এই তিনটি পয়েন্ট অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

যদি আপনি এ তিনটি পয়েন্ট মনে রেখে কোন একটি টপিক বাছাই করে কাজ করেন তাহলে অবশ্যই আপনি ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করবেন।

কেউ আপনাকে ঠেকাতে পারবে না। তবে সফলতা প্রথমে আসে না সফলতা আসে ধীরে ধীরে। তাই আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে কি কি কাজ করতে পারেন ?

তালিকা গুলো হলো এই ঃ

  1. আর্টিকেল রাইটিং করতে পারেন
  2. ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারেন
  3. ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট
  4. ওয়েব ডিজাইন
  5. ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট
  6. এফিলিয়েট মার্কেটিং
  7.  ব্লগিং
  8. এসইও
  9. গ্রাফিক্স ডিজাইন
  10. ওয়েব ডেভোলোপমেন্ট
  11. ডাটা এনালাইসিস

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য সব থেকে ভালো সাইট গুলো কি কি?

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের জন্য অনেক মার্কেটপ্লেস হয়েছে। তার মধ্যে জনপ্রিয় তিনটি মার্কেটপ্লেসের নাম বলা হলো।এসব মার্কেটপ্লেসে আপনারা নির্দ্বিধায় কাজ করতে পারেন।

১/ ফ্রিল্যান্সার ডটকম ( freelancer.com)

এই মার্কেটপ্লেস অনেক নামকরা। এখানে সব ধরনের এই কাজ পাবেন। এর জন্য সব ধরনের  ক্লায়েন্ট পাবেন। এখানে প্রায় ১৪০০ ক্যাটাগরিতে আলাদা আলাদা লোকজন কাজ করছে।

২/ ফাইবার ডটকম (Fiverr.com)

বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হচ্ছে ফাইবার। এখানে প্রতিটি কাজ 5 ডলার থেকে শুরু হয়। এখানে সব ধরনের ক্যাটাগরির কাজ পাওয়া যায়। এবং সব ধরনের ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়।

৩/ আপওয়ার্ক (upwork.com)

এটাও অনেক নামকরা একটি মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য। এখানেও সব ধরনের কাজ পাওয়া যায় । পাশাপাশি সব ধরনের ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়। এখানে প্রায় 13 মিলিয়ন ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করছে।

৪/ গুরু (guru.com)

GURU এই ওয়েবসাইটটি অনেক চমৎকার। এখানে প্রায় 30 লক্ষ লোক কাজ করে। এখানে আপনি সব ধরনের কাজ পাবেন।

এখানে আপনার অভিজ্ঞতা অর্থাৎ আপনি কোন কাজ নিয়ে পারদর্শী বেশি এগুলো দিয়ে আপনার প্রোফাইলটা সাজাবেন ।

লোকেরা আপনার প্রোফাইল দেখে দেখে আপনাকে কাজ দিবে।

পরিশেষে বলব: আশা করি  ফ্রিল্যান্সিং কি ?  ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কিভাবে শুরু করতে হয়? এ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ভাবে ধারণা দিতে পেরেছি।

যদি  আপনি এগুলো ফলো করেন তাহলে আপনি অতিশীঘ্রই সফল হতে পারবেন। এবং অনলাইন থেকে প্রচুর পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আরো পড়ুন : অনলাইনে টাকা ইনকাম করুন লাইফটাইম ১৫টি উপায়ে

Leave a Reply

Your email address will not be published.

fifteen − 1 =