বেতের নামাজের নিয়ম ও বেতের নামাজ কয় রাকাত ?

আপনি বেতের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান  ? তাহলে এই আর্টিকেলটি শুধু আপনার জন্য।

বেতের এটা আরবি শব্দ। আর বেতেরের অর্থ হল বেজোড়। আর নামাজ যেহেতু ৩ রাকাত তাই তাকে বেতের নামকরণ করা হয়েছে।

এ নামাযের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। আমাদের নবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেতেরের নামাজের ব্যাপারে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন।

এবং তিনি বলেছেন বেতেরের নামাজ পড়া আবশ্যক। যে ব্যক্তি বেতেরের নামাজ আদায় করবে না আমাদের জামায়াতের সাথে তার কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। (আবু দাউদ শরীফ)

সুতরাং বুঝা গেল বেতেরের নামাজের অনেক গুরুত্ব। আজ আমি বেতের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করুন।

যাতে করে আপনি নিয়ম জেনে খুব সুন্দর ভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন। তাই অবশ্যই আপনাকে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়তে হবে। তাহলে আপনি বেতেরের নামাজ সম্পর্কে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

বেতের নামাজের নিয়ম

বেতের নামাজের নিয়ম

নিয়ম বলার আগে বেতেরের সময় ও নিয়ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব যাতে করে আপনার কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে যায় ।

কোন ধরনের সংশয় না থাকে । ফলে আপনি কোন প্রবলেমের মুখোমুখি হবেন না । নামাজ পড়তে সুবিধা হবে এবং নামাজের গুরুত্ব আরো দিগুণ বেড়ে যাবে ।

বেতের নামাজের সময়

বেতের নামাজের সময় হল এশারের নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নত পরে তারপর বেতের নামাজ পড়া।

এই বেতের নামাজ সারা বছর একাকী পড়া হয়। আর রমজান মাসে বেতেরের নামাজের সময় একটু ভিন্ন রয়েছে।

সেটা হলো এশার নামাজ আদায় করে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ে তারাবির 20 রাকাত নামাজ আদায় করে তারপর বেতের নামাজ পড়া হয়।

যদি পুরুষ হয় তাহলে জামাতের সাথে বেতের নামাজ আদায় করা হয়। অর্থাৎ আপনি যদি মসজিদে যান ।

জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেন তাহলে বেতের নামাজ জামাতের সাথে পড়া হয়। আর যদি বাড়িতে পড়েন অথবা কোন মহিলা হয় তাহলে এক্ষেত্রে আগের নিয়মেই।

Read more :তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও সময়: সঠিক উপায়ে বিস্তারিতভাবে জানুন !

বেতের নামাজের নিয়ত

আমি কেবলা মুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে বেতেরের ৩ রাকাত নামাজ আদায় করছি। এরপর আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাঁধবেন।

নিয়ত দুইভাবে করতে পারেন । (১) আরবী (২) বাংলা । আপনি এই দুই পদ্বতির যে কোন একটি পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন ।

বিস্তারিত ভাবে বেতের নামাজের নিয়ম

বেতের নামাজ অন্যান্য নামাজের মতই। তবে এখানে একটু পার্থক্য রয়েছে। প্রথম দুই রাকাআত অন্যান্য নামাজের মত আদায় করবেন।

তবুও একটু বলে দিচ্ছি। সর্বপ্রথম নামাজের নিয়ত করবে। নিয়ত আপনি আরবিতে করতে পারেন আবার বাংলাতেও করতে পারেন।

তারপর সানা পড়বেন। এরপর আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়বেন। এরপর সূরা ফাতিহা পড়বেন। তারপর যে কোন একটি সূরা মেলাবেন।

এরপর রুকু করবেন এবং রুকুর তাসবীহ গুলো পড়বেন । তারপর রুকু থেকে উঠে সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা রব্বানা লাকাল হামদ বলবেন।

তারপর সেজদা করবেন। সিজদার তাসবীহ গুলো পড়বেন। তারপর সেজদা থেকে উঠবেন। এরপর বসবেন।

আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি এই দোয়াটি পড়বেন। তারপর আবার সেজদা করবেন। তারপর দ্বিতীয় রাকাতে জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠে যাবেন।

এভাবে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।তারপর আবার দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন। বিসমিল্লাহ বলবেন তারপর সূরা ফাতিহা বলবেন।

তারপর যে কোন একটি সূরা মিলাবেন।এরপর রুকু করবেন এবং রুকুর তাসবীহ গুলো পড়বেন ।

তারপর রুকু থেকে উঠে সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা রব্বানা লাকাল হামদ বলবেন। তারপর সেজদা করবেন। সিজদার তাসবীহ গুলো পড়বেন।

তারপর সেজদা থেকে উঠবেন। এরপর বসবেন। আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি এই দোয়াটি পড়বেন। তারপর আবার সেজদা করবেন।

তারপর সেজদা থেকে উঠে শেষ বৈঠক করবেন। এরপরে তাশাহুদ পড়বেন দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহুদ পড়ার পর তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন।

এরপর বিসমিল্লাহ পড়বেন তারপর সূরা ফাতিহা পড়বেন। তারপর যেকোন একটা সূরা মিলাবেন।

এরপর আল্লাহু আকবার বলে হাত কান পর্যন্ত উঠাবেন তারপর আবার হাত বাধবেন। এরপর দোয়ায়ে কুনুত পড়বেন। দোয়ায়ে কুনুত আরবিতে।

বেতের নামাজের দোয়া বাংলা উচ্চারণ

বেতের নামাজের দোয়া বাংলা উচ্চারণ

দোয়ায়ে কুনুত পড়া শেষ হলে । উল্লেখিত নিয়মে নামাজ শেষ করবেন। আশাকরি আপনি বুঝতে পেরেছেন বেতের নামাজ কিভাবে পড়তে হয় ।

এ ব্যপারে আরো বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন ।

পরিশেষে বলব : 

উপরে বেতের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।আশাকরি আপনি বুঝতে পেরেছেন ।

এ সমস্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে আপনি ভালভাবে আইডিয়া নিতে পারেন বেতের নামাজ সম্পর্কে। ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

FAQ

বেতের নামাজ কয় রাকাত ?

বেতের নামাজ তিন রাকাত। এ ব্যাপারে হাদিস রয়েছে। ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলায় আট রাকাত (তাহাজ্জুদ ) নামাজ পড়তেন। বেতের নামাজ তিন রাকাত পড়তেন। ফজর নামাজের আগে দুই রাকাত (সুন্নত) নামাজ পড়তেন। হাদিসটি রয়েছে নাসাঈ শরীফে। অতএব এই হাদিস দ্বারা বুঝা গেল বেতের নামাজ তিন রাকাত। আশাকরি আপনি বুঝতে পেরেছেন।

বেতের নামাজের সূরা কি কি ?

না বেতরের নামাজে নির্দিষ্ট কোন সূরা নেই। বরং অন্যান্য নামাজের মত যে কোন সূরা পড়তে পারবেন।
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশিরভাগ কয়েকটি সুরা পড়তেন। এগুলো ফলো করলে সুন্নত হিসেবে ধর্তব্য হবে। যেমন প্রথম রাখাতে সূরা আলা পড়তেন। দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরুন পড়তেন। তৃতীয় রাকাতে সূরা এখলাস পড়তেন। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন।

বেতের নামাজ কি ওয়াজিব না সুন্নত ?

বেতেরের নামাজ হলো ওয়াজিব।
এ ব্যাপারে আবু সাঈদ খুদরি রাযিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। যে ব্যক্তি নিদ্রা অথবা ভুলের কারণে বেতের নামাজ আদায় করে না। সে যেন স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে ওই নামাজটা আদায় করে নেয়।
সুতরাং এই হাদিস দ্বারা বুঝা যায় বেতরের নামাজ ওয়াজিব। কেননা ওয়াজিব যদি নাই হত তাহলে কাজা করতে বলা হত না। আশা করি আপনি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

মহিলাদের বেতের নামাজের নিয়ম কি ?

মহিলাদের জন্য বেতরের নামাজের আলাদা কোন নিয়ম নেই। অর্থাৎ পুরুষরা যেভাবে বেতের নামাজ আদায় করে ঠিক তেমনি ভাবে মহিলারা আদায় করবেন।

দোয়া কুনুত ছাড়া বেতের নামাজ হবে কি ?

বেতরের নামাজে দোয়ায়ে কুনুত ওয়াজিব। তবে হুবহু দোয়ায়ে কুনুত পড়া ওয়াজ নয়। বরং অন্য যেকোনো দোয়া পড়লে আদায় হয়ে যাবে। তবে হাদিসে যে দোয়াটি এসেছে সেটাই পড়া উত্তম। আর যদি কেউ দোয়ায় কুনুত তথা বা অন্য কোন দোয়া ইচ্ছাকৃতভাবে না পড়ে তাহলে ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে নামাজ হবে না। পুনরায় আবার নামাজ পড়তে হবে।
আর যদি ভুলে না পড়ে তাহলে সাহু সেজদা দিলেই নামাজ হয়ে যাবে। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন।

I always like to learn new things and spread them. Therefore, my main goal is to highlight various new topics related to online business, online income, blogging and information technology.

Leave a Comment