বেকারি ব্যবসার আইডিয়া ২০২৪ : ব্যবসা করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন ।

আপনি কি বেকারি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানতে চান ? তাহলে এ আর্টিকেলটা আপনার জন্য।

কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দুর করতে সাধারণত মানুষ টোস, বিস্কুট ইত্যাদি খেয়ে থাকে। চায়ের সাথে এখন তো টোস , বিস্কুট ছাড়া চলেই না।

আবার শিশুদের প্রতিনিয়ত নাস্তার তালিকায় বেকারি পণ্য তো অবশ্যই থাকে। সব মিলিয়ে বর্তমান সময়ে বেকারি পণ্যের চাহিদা অনেক বেড়েছে।

জনপ্রিয় বেকারি ব্যবসায় লাভের পরিমাণটাও সন্তোষজনক। এজন্য আপনার বেকারত্ব দুর করতে আপনিও বেকারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

তাই আজ আমি আপনাদের সুবিধার্থে বেকারি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

পাশাপাশি ব্যবসা করার জন্য কি কি বিষয়ের প্রতি বেশি লক্ষ্য রাখতে হবে সে বিষয়গুলো আলোচনা করব।

যাতে করে আপনি খুব সহজেই ব্যবসা করতে পারেন। সুতরাং শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে আপনাকে আর্টিকেলটি পড়তে হবে।

বেকারি ব্যবসার আইডিয়া

বেকারি ব্যবসার আইডিয়া ২০২৪

বেকারি ব্যবসা করে সফলতা অর্জনের জন্য আমি আপনাকে কিছু গাইডলাইন দিবো। সুতরাং ব্যবসায় লাভবান হওয়ার জন্য এই গাইডলাইনগুলো অনুসরণ করতে হবে।

বেকারি ব্যবসার জন্য যে সব বিষয়ে জানা প্রয়োজন।

  1. পূর্ব পরিকল্পনা ।
  2. মুলধন ।
  3. বর্তমান বাজার অনুযায়ী বেকারি ব্যবসার প্রকারভেদ ।
  4. স্থান নির্বাচন করা ।
  5. কাস্টমারদের সাথে সদাচরণ করা ।
  6. সতর্কতা অবলম্বন করা ।

এতক্ষণ সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলাম । এখন বেকারি ব্যবসার আইডিয়া বিস্তারিত আলোচনা করব ।

১, পূর্ব পরিকল্পনা

যে কোন ব্যবসা স্থায়ী করার জন্য ব্যবসা শুরু করার আগে পূর্ব পরিকল্পনা করতে হয়। আপনার যেহেতু বেকারি ব্যবসা করতে চান,

তাহলে আপনাকে ব্যবসা শুরু করার আগে বেকারি বাজার সম্পর্কে জানতে হবে। এবং আপনার লক্ষবস্তু ঠিক করতে হবে।

মোটকথা আপনাকে পূর্ব থেকেই পরিপূর্ণ বেকারি ব্যবসার একটা ছক তৈরি করে রাখতে হবে। এবং তৈরি করা ছক অনুযায়ী সামনে অগ্রসর হতে হবে।

২, মুলধন

যে কোন ব্যবসার ক্ষেত্রে মুলধন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার ব্যবসার লাভ নির্ভর করে আপনার মুলধনের উপর।

এজন্য আগে থেকেই আপনাকে মুলধন নিয়ে ভাবতে হবে। একটি বেকারি ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনার কমপক্ষে ৩-৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হবে।

সুতরাং প্রথমে আপনাকে মুলধন যোগাড় করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সুদের হারে বিজনেস লোন উঠাতে পারবেন। 

আরো পড়ুন : 

৩, বর্তমান বাজার অনুযায়ী বেকারি ব্যবসার প্রকারভেদ

বেকারি ব্যবসা বর্তমানে অনেক লাভজনক একটা ব্যবসা। সুতরাং মানুষ বিভিন্ন উপায়ে বেকারি ব্যবসা করে থাকে।

আমরা আপনাকে  আমাদের এই আর্টিকেলে বর্তমান বাজার অনুযায়ী বেকারি ব্যবসার প্রকারভেদ বিস্তারিতভাবে জানাবো।

  • (ক) বেকারি পণ্য উৎপাদন
  • (খ) বেকারি ডিলারশিপ ব্যবসা
  • (গ) খুচরা বেকারি পণ্য ব্যবসা

(ক) বেকারি পণ্য উৎপাদন

আপনি নিজে বেকারি পণ্য উৎপাদন করে ব্যবসা করতে পারলে খুব বেশি লাভবান হতে পারবেন।

বেকারি পণ্য উৎপাদন বলতে বুঝায় , আমরা যেটাকে বেকারি কারখানা বলে থাকি। তবে, বেকারি পণ্য উৎপাদন করতে হলে আপনাকে বেকারি পণ্য সম্পর্কে আইডিয়া থাকতে হবে।

যেমন- বর্তমান বাজারে কয়েক ধরনের বেকারি পণ্য পাওয়া যায়। এখন আপনি কোন ধরনের বেকারি পণ্য উৎপাদন করবেন।

নাকি সব ধরনের বেকারি পণ্য উৎপাদন করবেন। সে সম্পর্কে ভালোভাবে চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

বেকারি পণ্যের প্রকার সমূহ:

  1. স্বাস্থ্যকর বেকারি: এই ধরনের বেকারিতে আপনি যে সব স্বাস্থ্যকর বেকারি পণ্য উৎপাদন করবেন।যেমন গ্লুটেন-মুক্ত, ল্যাকটোজ-মুক্ত, ডায়াবেটিক, ইত্যাদি ।
  2. নিরামিষ বেকারি: এই ধরনের বেকারিতে আপনি সব  নিরামিষ বেকারি পণ্য তৈরি করবেন।
  3. ট্রেডিশনাল বেকারি: এই ধরনের বেকারিতে সাধারণত আপনি যে সব  বেকারি পণ্য উৎপাদন করবেন।যেমন রুটি, বিস্কুট, কেক, কুকিজ, ইত্যাদি ।
  4. কনফেকশনারি বেকারি: এই ধরনের বেকারিতে আপনি মিষ্টি এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরি করবেন।
  5. কেক ওয়ার্কশপ: এই ধরনের বেকারিতে আপনি বিভিন্ন ধরনের কেক তৈরি করবেন।

বেকারি পণ্য উৎপাদন করতে আপনার যে সব সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে: 

আপনি একটি কারখানাতেই বিস্কুট, কেক এবং বিভিন্ন ধরনের রুটিসহ সব ধরনের বেকারি পণ্য বানাতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে বিস্কুট তৈরি করতে হলে আপনার কিছু সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে। যেমন- 

  • ওভেন
  • বিশেষ ধরনের টেবিল
  • বিস্কুটের ছাঁচ
  • ময়দা
  • মিকশ্চার মেশিন
  • পাতা মেশিন 

কেক তৈরি করতে প্রয়োজন হবে –

  • ছাঁচ
  • বিশেষ ধরনের কাগজ
  • ময়দা
  • মিকশ্চার মেশিন
  • ছুরি

পাউরুটি বানাতে আপনার প্রয়োজন হবে-

  • এক বা দুই পাউন্ডের ছাঁচ
  • ব্রাশ। 
  • ময়দা
  • মিকশ্চার মেশিন

উপরোক্ত সরঞ্জামগুলো আপনি নিকটবর্তী বাজার অথবা বড় বড় কম্পানি থেকে ক্রয় করতে পারেন।

উপরে উল্লেখিত সরঞ্জাম ছাড়াও আপনার প্রয়োজন হবে – কেক, বিস্কুট, এবং পাউরুটি ইত্যাদি প্যাকেটজাত করার একটি মেশিন।

এভাবে আপনি বেকারি পণ্য উৎপাদন করে একজন সফল ব্যবসায়ীদের তালিকায় নাম লেখাতে পারেন।

বেকারি পণ্য উৎপাদনের জন্য আপনাকে আরো কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

১.দক্ষ কর্মচারী নিয়োগ দেয়া

আপনাকে বেকারি জগতে মার্কেট পেতে হলে , আপনার বেকারি পণ্য ভালোভাবে উৎপাদন করতে হবে।

আপনার পণ্য ভালো না হলে আপনার বেকারি পণ্য বেশি বিক্রি হবে না। এজন্য পণ্য তৈরির সময় বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

দক্ষ কর্মচারী নিয়োগ দিলে ক্ষতির আশঙ্কা আর থাকে না। কেননা, উন্নত মানের বেকারি খাবার তৈরি করাই হলো বেকারি ব্যবসায় লাভবান হওয়ার চাবিকাঠি।

সুতরাং সব সময় বেকারি পণ্য উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে উন্নত মানের উপকরণ ব্যবহার করবেন।

 ২. সৃজনশীল হোন 

মানুষ নতুন জিনিসের প্রতি আকর্ষিত হয়। এজন্য আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে। আপনার মেধা কে কাজে লাগিয়ে বেকারি খাবারের নতুন নতুন ডিজাইন দিয়ে তৈরি করতে হবে।

দৃষ্টি আকর্ষণীয় ডিজাইনের বেকারি পণ্য উৎপাদন করলে দ্রুত মার্কেট পাওয়া যায়। 

৩. স্থান নির্বাচন করা

আপনার বেকারি পণ্য উৎপাদন কারখানা এককি উপযুক্ত স্থানে দিতে হবে। এবং এমন জায়গায় করতে হবে যেখানে খুব সহজে ভ্যান বা ট্রাক অনাহাসে যাতায়াত করতে পারে। তাহলে আপনার বেকারি পণ্য বিক্রি করতে অনেক সুবিধা হবে।

(খ) বেকারি ডিলারশিপ ব্যবসা

বড় কোন কারখানা বা কম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদের পণ্যগুলো বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকানে পৌঁছিয়ে দেওয়া কে ডিলারশিপ ব্যবসা বলা হয়।

সব খুচরা দোকানগুলো সরাসরি কম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে পারে না । এজন্য তারা ডিলারশিপ এর মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করে।

সুতরাং আপনি ও বেকারি ডিলারশিপ ব্যবসা করতে পারেন। বেকারি ডিলারশিপ ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা। ডিলারশিপের মাধ্যমে আপনি বেকারি ব্যবসা করলে অনেক দ্রুত লাভবান হবেন।

ডিলারশিপ ব্যবসার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র:

আপনি ডিলারশিপ ব্যবসা করতে হলে আপনার একটা গাড়ি লাগবে। তারপর একজন এসআই লাগবে (যে বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট গিয়ে বেকারি পণ্যের অর্ডার নিবে)।

তারপর একজন ড্রাইভার ও একজন হেলপার লাগবে, ( যারা অর্ডারকৃত বেকারি মালামালগুলো নির্দিষ্ট দোকানে পৌঁছিয়ে দিবে।

(গ) খুচরা বেকারি পণ্য ব্যবসা

বর্তমান মার্কেটে বেকারি পণ্য অনেক সাড়া জাগিয়েছে। মানুষের নিত্য দিনের খাবারের তালিকায় স্থান পেয়েছে বেকারি পণ্য।

রিকশা চালকরা রিকশা চালানোর ফাঁকে একটা রুটি বা একটা কেক খেতে চায়। তাছাড়া শহর অঞ্চলে ধনী গরীব সবাই এখন সকালের নাস্তায় ভাত না খেয়ে বেকারি খাবার দিয়ে নাস্তা সেরে ফেলে।

এজন্য সবাই খুচরা বেকানি মালামাল ক্রয় করে থাকে। সুতরাং বর্তমান সময়ে খুচরা বেকারি পণ্যের চাহিদা খুব বেশি থাকয় আপনিও এই ব্যবসা করতে পারেন।

এক্ষেত্রে আপনি একটি দোকান দিয়ে খুচরা বেকারি পণ্য বিক্রি করার পাশাপাশি অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী বিক্রি করতে পারেন।

৪, স্থান নির্বাচন করা

আপনার দোকান দেওয়ার আগে আপনাকে স্থান নির্বাচন নিয়ে গবেষণা করতে হবে। অর্থাৎ, কোথায় বেকারি দোকান দিলে বেকারি মালামাল বেশি বিক্রি হবে। সেখানে আপনাকে বেকারির দোকান দিতে হবে।  

৫, কাস্টমারদের সাথে সদাচরণ করা

ব্যবসায়ী হতে হলে আপনাকে ব্যবসায়ীদের গুনাগুণ অর্জন করতে হবে। আর ব্যবসায়ীদের অন্যতম একটি গুণ হলো তারা কাস্টমারদের সাথে সর্বাস্থায় ভালো ব্যবহার করেন।

পণ্যের দরদাম নিয়ে কাস্টমার উত্তেজিত হলে আপনাকে উত্তেজিত হওয়া যাবে না। বরং তার সাথে নম্রতা বজায় রেখে লেনদেন করতে হবে।

কাস্টমারদের সাথে হাঁসি মুখে দরদাম করতে হবে। মানুষ যেখানে ভালো আচরণ পায় , সেখানে বারবার যেতে চায়।

সুতরাং কাস্টমার ধরে রাখার অন্যতম উপায় হলো তাদের সাথে ভালো আচরণ -ব্যবহার করে।

৬, সতর্কতা অবলম্বন করা 

বেকারি ব্যবসার ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যেমন- মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর বেকারি পণ্য বিক্রি না করা।

কেননা, আপনার দোকান থেকে ক্রয়কৃত বেকারি পণ্য খেয়ে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে , তাহলে আপনার নামে মামলাও হতে পারে।

আবার আপনি যদি খুচরা বেকারি পণ্য ব্যবসায়ী হোন তাহলে আপনি বাকিতে বিক্রি করার ক্ষেত্রে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

কেননা, বেশি বাকি পড়ে গেলে কাস্টমারের সাথে কথা কাটাকাটি হয় আর তখন তাদের সাথে সম্পর্ক ও ছিন্ন হয়ে যায়। এতে আপনার মার্কেটিং কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসংহার

উপরে বেকারি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে আলোচনা করলাম । বেকারি ব্যবসা খুব লাভজনক একটা ব্যবসা।

সুতরাং আপনি যদি উপরোক্ত কথাগুলো মাথায় রেখে বেকারি ব্যবসা শুরু করেন। তাহলে আপনি লাভবান হতে পারবেন।

আশাকরি আপনি অনেক উপকার পেয়েছেন । লেখা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

FAQ

বেকারি ব্যবসা কিভাবে করা যায় ?

কয়েকটি বিষয় ফলে করে খুব সহজেই বেকারি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন ।
১. পূর্ব পরিকল্পনা করতে হবে ।
২. মুলধন ব্যবস্থা করতে হবে ।
৩. বর্তমান বাজার অনুযায়ী বেকারি পণ্য নির্ধারণ করা ।
৪. স্থান নির্বাচন করা ।
৫. কাস্টমারদের সাথে সদাচরণ করা ।
৬. সতর্কতা অবলম্বন করা ।
এগুলো ফলো করে খুব সহজেই বেকারি ব্যবসা করতে পারবেন ।

I always like to learn new things and spread them. Therefore, my main goal is to highlight various new topics related to online business, online income, blogging and information technology.

Leave a Comment